এ বি এম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস নিয়োগ বাতিল: আইন, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ব্যাখ্যা দিল বিএমইউ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:১৭ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১১:২২ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, আইনানুগ প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত এক ব্যাখ্যামূলক বিবৃতিতে বিএমইউ জানায়, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক প্রশাসনিক, প্রক্রিয়াগত ও আর্থিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে বর্তমান সিন্ডিকেট আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে দেওয়া নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত বিবেচনা করে বাতিল করেছে। একই সঙ্গে ওই নিয়োগের ভিত্তিতে গ্রহণ করা বেতন-ভাতা প্রচলিত আইন অনুযায়ী ফেরত চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: কেআইবি কেন্দ্রিক চাঁদাবাজির প্রতিবাদে শেকৃবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

এর আগে গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামালের সই করা এক অফিস আদেশে ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক (আজীবন) নিয়োগ বাতিল এবং ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে এ পদে নেওয়া বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করে।

নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যেসব প্রশ্ন তুলেছে বিএমইউ

আরও পড়ুন: গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি: মাসুমের সংগ্রাম জয়ের গল্প

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ৬৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ এবং ৮৫তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে তিন বছরের জন্য প্রফেসর এমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় তিনি মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানী, চিকিৎসা সুবিধা এবং সীমিত প্রশাসনিক সুবিধা পেতেন। ওই নিয়োগ বিধি অনুযায়ী হওয়ায় সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আপত্তি ছিল না।

তবে ২০২৪ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় প্রফেসর এমেরিটাস অধ্যাদেশ সংশোধন করে আজীবন নিয়োগের বিধান যুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে পূর্ণকালীন অধ্যাপকের অবসরকালীন সর্বোচ্চ বেতনের সমপরিমাণ সম্মানী, আজীবন চিকিৎসা সুবিধা, স্টাফসহ অফিস এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা নির্ধারণ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, বাজেট অধিবেশনের মূল এজেন্ডার বাইরে এ ধরনের প্রস্তাব উত্থাপন নজিরবিহীন এবং প্রশাসনিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এতে একজনকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই নিয়োগের আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকার বেশি অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিধি অনুসরণ না করার অভিযোগ

বিএমইউর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রফেসর এমেরিটাস নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সুপারিশ, ডিনের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে প্রস্তাব উপস্থাপন, মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে এসব ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। কেবল একজন সদস্যের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাঁকে আজীবনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় আরও দাবি করেছে, নিয়োগের পর গত প্রায় দুই বছরে তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত হননি, পাঠদান করেননি কিংবা গবেষণায় সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করেননি। তবে এ সময় তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন।

আর্থিক সুশাসন নিয়েও প্রশ্ন

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর এমেরিটাস পদে নিয়োগের নজির থাকলেও আজীবনের জন্য পূর্ণকালীন অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতনের সমপরিমাণ পারিশ্রমিক এবং বিস্তৃত প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার নজির পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে আর্থিক দায় বৃদ্ধি করা হলেও বিষয়টি অর্থ কমিটিতে উপস্থাপন বা তাদের সুপারিশ নেওয়ার কোনো নথি পাওয়া যায়নি। ফলে আর্থিক সুশাসন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় মনে করছে।

বেতন-ভাতা ফেরতের ব্যাখ্যা

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো নিয়োগ পরবর্তীতে প্রক্রিয়াগত বা আইনগত ত্রুটির কারণে বাতিল হলে সেই নিয়োগের ভিত্তিতে দেওয়া আর্থিক সুবিধা পুনরুদ্ধারের বাধ্যবাধকতা থাকে। সে কারণেই সংশ্লিষ্ট সময়ের বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এটি প্রচলিত আইনের অংশ, কাউকে হয়রানি করা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য নয়।

বিএমইউ বলেছে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইন, বিধিমালা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। সেই নীতির আলোকে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।