স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটের ২৫ দিন আগেই চূড়ান্ত হবে কেন্দ্রের তালিকা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ন, ১১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করতে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন থেকে দেশের সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটগ্রহণের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটার অনুপাতে বুথ নির্ধারণের অভিন্ন নীতিমালাও কার্যকর করা হয়েছে। কমিশনের আশা, এসব পরিবর্তনের ফলে নির্বাচন আয়োজন আরও পরিকল্পিত হবে এবং ভোটারদের ভোগান্তি কমবে।

শনিবার ( ১২ জুলাই)  নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কমিশন জানিয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ সংশোধনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন গড়তে প্রস্তুতি জোরদার, জাতীয় ভোটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে ইসি

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এতদিন জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটের মাত্র ১৫ দিন আগে কেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করার বিধান ছিল। তবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আগে থেকেই ২৫ দিন আগে কেন্দ্র নির্ধারণের নিয়ম চালু ছিল। ভিন্ন ভিন্ন বিধান বাতিল করে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অভিন্ন কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও একই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ভোটকেন্দ্রের তালিকা আগে চূড়ান্ত হলে কেন্দ্র নিয়ে আপত্তি, সংশোধন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা, নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং ভোটারদের আগাম প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে। ফলে নির্বাচন পরিচালনায় প্রশাসনিক সমন্বয় আরও কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন: অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি, আইনি কাঠামো ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার প্রশ্নে নতুন বার্তা

সংশোধিত নীতিমালায় ভোটকক্ষ বা বুথ নির্ধারণেও নতুন নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য একটি এবং প্রতি ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ বা বুথ রাখতে হবে। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটারসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বুথ বাড়ানোর ফলে ভোটগ্রহণে দীর্ঘ সারি কমবে, ভোটারদের অপেক্ষার সময় হ্রাস পাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা সহজ হবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিও জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এরপর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ দ্রুত শেষ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে প্রতিটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রথম সভা কবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই তথ্যও কমিশন চেয়েছে। কারণ, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ নির্ধারণ এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সূচি প্রণয়নে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সময়মতো সীমানা নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণ এবং ভোটার অনুপাতে বুথ স্থাপনের মতো পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও সুশৃঙ্খল, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য করতে সহায়ক হবে।

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া দেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে প্রশাসনিক দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কমিশনের প্রস্তুতি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিশনের আশা, প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।