রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত, আলোচনায় ৩ নাম
আসন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় দলটি। তবে রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতের প্রার্থী কে হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আজ জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
দলীয় ও জোট সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জোটের শরিক এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির নামও প্রস্তাব করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
জামায়াত ও জোটের নেতাদের ভাষ্য, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বর্তমান সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নির্বাচনের ফল অনেকটাই নির্ধারিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২১১টি আসন পাওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন তারা। এরপরও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়াকে গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখছে জামায়াত।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা পেল ইসি, তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটি। গত ১ আগস্ট স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামও আলোচনায় এসেছে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদকেও সম্ভাব্য তালিকায় রাখা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং দল ও সরকারে কার ভূমিকা কোথায় বেশি প্রয়োজন—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এসব বিবেচনায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা আগের তুলনায় ছোট হয়ে এসেছে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।





