মারা গেছেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ খ্যাত অভিনেতা আরজে মিটি

Shahrier Islam Pallab
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:০২ অপরাহ্ন, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা আরজে মিট মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর। তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কাজ করতেন এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিনেতার প্রতিনিধি শন রেইলি বলেন, “প্রিয় অভিনেতা, মানবহিতৈষী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার কর্মী আরজে মিটের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি। ব্রাউনসভিল পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, অভিনেতার মৃত্যুর কারণ ও ধরন এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: সার্বিয়ার চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার জিতল ‘মাস্টার’

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ক্যামেরন কাউন্টির জাস্টিস অব দ্য পিস সিন্ডি হিনোজোসা জানান, ১২ অক্টোবর আরজে মিটকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নিজের বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হবে।

‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ অভিনয়ে পরিচিতি

আরও পড়ুন: প্রাক্তন প্রেমিকের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ নীতি টেলরের

আরজে মিটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল এএমসিতে পাঁচ মৌসুমে প্রচারিত সিরিজটিতে তিনি ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করেন। সিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ওয়াল্টার হোয়াইটের ভূমিকায় ছিলেন ব্রায়ান ক্র্যানস্টন এবং জেসি পিংকম্যান চরিত্রে অভিনয় করেন অ্যারন পল।

ভিন্স গিলিগানের নির্মিত সিরিজটি ৫৮টি প্রাইমটাইম এমি পুরস্কারের মনোনয়ন পায় এবং ১৬টি পুরস্কার জেতে। এর মধ্যে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে সেরা ড্রামা সিরিজের পুরস্কারও রয়েছে। সিরিজটিতে অভিনয়ের জন্য ২০১৪ সালে স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন আরজে মিট।

সেরিব্রাল পালসি নিয়ে জীবন কাটানো মিট নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছিলেন চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে। সিরিজে তাঁর চরিত্রের শারীরিক অবস্থাকে আলাদা করে গুরুত্ব না দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন, রসবোধ ও পারিবারিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

সহশিল্পীদের শোক

আরজে মিটের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর শোক জানিয়েছেন তাঁর সহশিল্পীরা। সিরিজে তাঁর বাবার চরিত্রে অভিনয় করা ব্রায়ান ক্র্যানস্টন ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় লেখেন, মিটের মৃত্যুর খবরে তিনি গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন।

ক্র্যানস্টন জানান, মাত্র ১৪ বছর বয়সে ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মিটের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। শুরুতে তরুণ অভিনেতা কিছুটা অনভিজ্ঞ থাকলেও ধীরে ধীরে তিনি দক্ষ অভিনেতা হয়ে ওঠেন। প্রতিবন্ধী অভিনয়শিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব ও অধিকার নিয়ে মিটের কাজেরও প্রশংসা করেন তিনি।

“তোমাকে খুব মিস করব, ছেলে”—মিটকে স্মরণ করে লেখেন ক্র্যানস্টন।

সিরিজে জেসি পিংকম্যান চরিত্রে অভিনয় করা অ্যারন পলও শোক প্রকাশ করেছেন। হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মিটের মৃত্যুতে তিনি বাক্‌রুদ্ধ ও মর্মাহত। অন্যদিকে, মিটের চাচা হ্যাঙ্ক শ্রেডার চরিত্রে অভিনয় করা ডিন নরিস জানান, পর্দায় মিট তাঁর ছেলে না হলেও শুটিংয়ের সময় ছোটবেলা থেকেই তিনি তাঁর খেয়াল রাখতেন। মিটকে মিষ্টি স্বভাবের একজন তরুণ হিসেবে স্মরণ করেন নরিস।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কাজ

লুইজিয়ানায় বেড়ে ওঠা আরজে মিট ২০০৫ সালে ছোট বোনের অভিনয়জীবনে সহায়তা করতে লস অ্যাঞ্জেলেসে আসেন। পরে সেখানেই ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।

অভিনয়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও পর্দায় তাঁদের যথাযথ উপস্থাপন নিশ্চিত করতে কাজ করেছেন তিনি। ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি এবং শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া মানবিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগকে সহায়তা করতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘দ্য মিট ফাউন্ডেশন’।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলানো এবং বিনোদনজগতে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যেই নিজের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। দৃশ্যমান ও অদৃশ্য—উভয় ধরনের প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জটিল ও বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা পর্দায় তুলে ধরার পক্ষে কথা বলেছেন মিট।

‘হান্না মন্টানা’, ‘সুইচড অ্যাট বার্থ’ ও ‘ওয়েস্টহ্যাম্পটন’-এর মতো কাজেও অভিনয় করেছেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে মুক্তি পাওয়া ‘টকিং টু স্ট্রেঞ্জার্স’ ছিল তাঁর সাম্প্রতিক কাজগুলোর একটি।