ধানক্ষেতে মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে পাওয়া অটোরিকশার সূত্র ধরে তদন্ত; বাবাকে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল তাজমীন
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হত্যা: চট্টগ্রামে সিএনজিচালক গ্রেপ্তার
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় জান্নাতুল তাজমীন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে (৩৮) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর অলংকার শিল্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। অটোরিকশাটি জব্দ করে সেটির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে চালক সুমনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: হরিরামপুরে কৃষকদের উদ্যোগে কাবাডি ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত
নিহত তাজমীন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। আবদুল আলীম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। পরিবারটি নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, ঘটনার আগে তাজমীন তার বাবার মোবাইল ফোনে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে যেতে বলেছিল। সে কখন ও কীভাবে বাসা থেকে বের হয়েছিল, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং পরে কী ঘটেছিল—এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: লালপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেল ও মোবাইল জব্দ
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, ঘটনার পর সুমন আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র নেই এবং তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। এ কারণে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সময় লেগেছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে কুমিল্লা ডিবি কার্যালয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছিল। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।
পুলিশ জানায়, সুমন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি কুমিল্লার বাগমারা দক্ষিণের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন এবং প্রায় এক মাস আগে সেখান থেকে চলে যান। স্থানীয়দের করা মাদকাসক্ত ও বখাটে স্বভাবের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তাজমীনের বাবা আবদুল আলীম লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত, অটোরিকশার সংশ্লিষ্টতা এবং সম্ভাব্য অন্য জড়িতদের ।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার কারণ ও ঘটনার পূর্ণ ধারাবাহিকতা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে। গ্রেপ্তার সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন; আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী বলা যাবে না।





