ডিআইজি পরিচয়ের জেরে কপাল পুড়ল অতিরিক্ত ডিআইজির

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ন, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৭ অপরাহ্ন, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের অভিযোগ এবং অনুমোদিত ছুটি কার্যকর হওয়ার আগেই বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ছাড়ার ঘটনায় অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটিতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহীতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত থাকার সময় টুটুল চক্রবর্তীর ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর দুই দিনের কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর ছিল। কিন্তু তিনি ১৩ নভেম্বর পূর্বাহ্নে কোনো প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল না করেই বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন: বিএনপির কমিটি ভাঙায় ব্যথিত সেই ওসি এবার বদলি

ওই দিন তিনি নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। পরে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছাড়েন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এর আগেও কয়েকবার রাজশাহী বিমানবন্দরে নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করায় টুটুল চক্রবর্তী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসেন। এ ঘটনায় জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ব ডাক দিবস আজ

এ ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পরে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। সময় বাড়ানোর জন্যও আবেদন করেননি। এরপর অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ৭ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি ২৩ জানুয়ারি থেকে পলাতক রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এরপর গত ১৬ জুন তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই নোটিশে। তবে এবারও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পিএসসি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে মত দেয়। সবশেষে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে গত ৫ অক্টোবর টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি গত ২৩ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থল থেকে পলাতক। এসব কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

টুটুল চক্রবর্তী ২০তম বিসিএসে ২০০১ সালের ৩১ মে পুলিশে যোগ দেন। তিনি ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালের ৩১ মে তিনি পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। চাকরি জীবনে ডিএমপির ডিসি ছাড়াও সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টুটুল চক্রবর্তী বিপিএম পদক পেয়েছিলেন। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর টুটুল চক্রবর্তী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।