নিকলীতে উৎসবের আমেজ, ১৯ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

Shahrier Islam Pallab
নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:১৩ অপরাহ্ন, ০২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১:২৯ পূর্বাহ্ন, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমায় ফুটে উঠছে নানা কারুকাজ। কোথাও চলছে রংয়ের কাজ, কোথাও শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উৎসবের প্রস্তুতি ও ব্যস্ততা।

এবার নিকলী উপজেলায় ১৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নিকলী সদর ইউনিয়নে ১১টি, দামপাড়া ইউনিয়নে ৩টি এবং গুরুই ইউনিয়নে ৫টি মণ্ডপ রয়েছে।

আরও পড়ুন: বিএনপি কখনো চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না: মীর সরফত আলী সপু

শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্ট। প্রতিটি মণ্ডপে সাজসজ্জার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নিকলী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সজল দাস ও সাধারণ সম্পাদক কার্তিক সূত্রধর বলেন, দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। উৎসবের আনন্দে যাতে কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে তারা কাজ করছেন। হিংসা-বিদ্বেষ নয়, ভালোবাসা ও সম্প্রীতিই তাদের মূলমন্ত্র। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।

আরও পড়ুন: মৌলভীবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. জাকির হোসেন

নিকলী উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক সুকুমার বর্মন ও সদস্য সচিব সেন্টু তালুকদার বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। যুগ যুগ ধরে এ দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সঙ্গে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। এবারও নিকলীতে আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা আশাবাদী। প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নজরদারি থাকবে।

নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দকে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানও অব্যাহত থাকবে।

সব মিলিয়ে প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে মণ্ডপের সাজসজ্জা—সবকিছুতেই এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশায় রয়েছেন নিকলীর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীম আরা  বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন থাকবে। উপজেলাজুড়ে পুলিশি টহল জোরদার করা হবে এবং সিসিটিভি ফুটেজ নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। পূজার নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমি বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজামণ্ডপে কেউ ইভটিজিং কিংবা মাদক সেবনের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

ইউএনও আরও বলেন, পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে আবারও সভা করা হবে। সভায় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। অতিরিক্ত কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।