প্রাক্তন প্রেমিকের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ নীতি টেলরের
ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নীতি টেলর জানিয়েছেন, অতীতে এক প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। তার অভিযোগ, ওই ব্যক্তি তাকে মারধর করার পাশাপাশি সিগারেটের ছ্যাঁকাও দিতেন। সম্প্রতি ‘হটারফ্লাই’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।
‘ক্যায়সি ইয়ে ইয়ারিয়াঁ’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের জন্য পরিচিত নীতি সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এর মধ্যে ছিল কাস্টিং কাউচের অভিজ্ঞতা, নির্যাতনমূলক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা এবং পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশার মতো বিষয়।
আরও পড়ুন: মারা গেছেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ খ্যাত অভিনেতা আরজে মিটি
নীতি জানান, ‘ক্যায়সি ইয়ে ইয়ারিয়াঁ’ ধারাবাহিকের প্রথম সিজনের শুটিং চলাকালে তার সঙ্গে প্রাক্তন প্রেমিকের সম্পর্ক ছিল। সে সময় তার পোশাক নিয়েও আপত্তি জানাতেন ওই ব্যক্তি। নীতি ছোট পোশাক পরলে প্রশ্ন তুলতেন তিনি। কোথায় যাচ্ছেন, কেন কারও পাশে দাঁড়িয়েছেন কিংবা কী করছেন—এসব বিষয়েও তাঁকে জবাবদিহি করতে হতো।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, সে সময় তিনি অনেকটাই সরল ছিলেন। সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখতে বারবার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করতেন। প্রাক্তন প্রেমিকের আচরণ সত্ত্বেও সম্পর্কের প্রতি ভালোবাসা ও নিষ্ঠা বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: সার্বিয়ার চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার জিতল ‘মাস্টার’
সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন প্রেমিকের জন্মদিনের একটি ঘটনার কথাও জানান নীতি। ওই অনুষ্ঠানে অস্বস্তি বোধ করায় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন মেয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরা নীতিকে জানান, গাড়িতে তাঁর জন্য অপেক্ষা করবেন। তবে বন্ধুদের সঙ্গে যাওয়ার আগে প্রেমিককে বিদায় জানাতে চাইলে তিনি বাধা দেন। বন্ধুরা তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেবেন বলে নীতি বোঝানোর চেষ্টা করলেও ওই ব্যক্তি রাজি হননি।
নীতি আরও জানান, একবার তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক তাকে জাপটে ধরে জোরে ধাক্কা দেন এবং চড় মারেন। ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছিল বলে দাবি করেন অভিনেত্রী। সে সময় তাঁর বন্ধুরা নিচে ছিলেন। পরে তারা ওপরে এসে নীতিকে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে আলাদা করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নীতি। বাড়িতে পৌঁছানোর পরও প্রাক্তন প্রেমিকের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলেন বলে জানান তিনি। অভিনেত্রীর অভিযোগ, ওই ব্যক্তি সিগারেট খেতে খেতে তাঁকে প্রশ্ন করছিলেন, কেন তিনি বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তাঁকে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। নীতির দাবি, সেই পোড়া দাগ এখনো তাঁর শরীরে রয়েছে।
শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিকভাবেও হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন বলে জানান নীতি। তার অভিযোগ, প্রাক্তন প্রেমিক তাঁর উচ্চতা, শরীর ও চেহারা নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করতেন। তাঁকে খাটো, মোটা ও কুৎসিত বলেও কটাক্ষ করা হতো।
এত কিছুর পরও সম্পর্কটি ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন নীতি। তিনি জানান, প্রাক্তন প্রেমিকের ফ্রিজ ও মাইক্রোওয়েভ পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে তার জন্য রান্না করা—সবই করতেন। ওই ব্যক্তির বাবা-মা বেড়াতে এলে তাঁদের সঙ্গে হাঁটতেও যেতেন। প্রেমিককে ভালোবাসতেন বলেই তাঁর প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করতেন বলে জানান অভিনেত্রী।
সাক্ষাৎকারে কাস্টিং কাউচের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন নীতি। তিনি জানান, দক্ষিণ ভারতের এক পরিচালকের সঙ্গে একটি ছবিতে কাজ করেছিলেন। পরে ওই পরিচালক তাকে আরেকটি প্রকল্পের প্রস্তাব দেন। নীতির অভিযোগ, ওই প্রস্তাবের সূত্র ধরে পরিচালক তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেন। এতে হতবাক হয়ে তিনি ফোন কেটে দেন, ওই ব্যক্তিকে ব্লক করেন এবং নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা পরীক্ষিত বাওয়ার সঙ্গে বিবাহিত নীতি বর্তমানে দাম্পত্য জীবন নিয়ে সুখী বলে জানিয়েছেন। পরিবার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো সুখবর এলে তা পরিবারের সঙ্গে উদ্যাপন করবেন। এ সময় স্বামীর সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নীতির ভাষ্য, দুজন মিলে নিজেদের সম্পর্ক ও ব্যস্ত শুটিংয়ের সময়সূচি সামলান এবং বাইরের চাপ যেন তাঁদের দাম্পত্য জীবনে প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে সচেতন থাকেন।
অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ম নীতির খোলামেলা বক্তব্যের পর তার ভক্তদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিনেত্রীর বর্ণনায় উঠে এসেছে, একটি সম্পর্কে নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, অপমান ও শারীরিক নির্যাতন কীভাবে একজন মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।





