ক্যানসারে আক্রান্ত সামিয়ার পাশে পরিবার

Shahrier Islam Pallab
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৪২ অপরাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪২ অপরাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন টেলিভিশন উপস্থাপিকা সামিয়া আফরিন। কঠিন এই সময়ে তাঁর মানসিক শক্তি হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। কেমোথেরাপির কারণে চুল ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে নিজেই মাথা ন্যাড়া করেন সামিয়া। এবার তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও সংহতি জানাতে মাথার চুল ফেলে দিয়েছেন স্বামী এস এম রেজাউল ইমরান ও ছেলে আহানাফ আরাবিও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামিয়ার শেয়ার করা একটি ভিডিও থেকে বিষয়টি সামনে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে ছেলের হাতে মাথা ন্যাড়া করান তিনি। পরে মাকে সাহস জোগাতে নিজেও চুল কেটে ফেলেন আহানাফ। এরপর স্ত্রীর পাশে থাকার বার্তা দিতে একই সিদ্ধান্ত নেন রেজাউল ইমরান।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক সংগীত জোটের নির্বাহী কমিটিতে হামিন আহমেদ

বর্তমানে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি নিচ্ছেন সামিয়া। চিকিৎসকেরা আগেই জানিয়েছিলেন, এই চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তাঁর চুল পড়ে যেতে পারে। বিষয়টি মানসিকভাবে মেনে নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে প্রথমে চুল ছোট করেন তিনি। পরে মাথা ন্যাড়া করার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাথা ন্যাড়া করার একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছিলেন এই উপস্থাপিকা। তাঁর মতে, চুল মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্যের অংশ হলেও আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন—এটিকেই বড় প্রাপ্তি মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় মেয়ের নাম প্রকাশ করলেন দীপিকা-রণবীর সিং

সামিয়ার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শুরু ২০২২ সালে। ওই বছর তাঁর কোলন ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়ে জানতে পারেন, রোগটি চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির কথা শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ইমিউনোথেরাপি শুরু করেন।

চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তাঁকে নানা শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। কখনো খাবার গিলতে সমস্যা হয়েছে, কখনো ত্বকে দেখা দিয়েছে চুলকানি। চিকিৎসার জন্য একাধিকবার সিঙ্গাপুরে যাতায়াত করতে হয়েছে তাঁকে।

ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই নিয়মিত ফলোআপের সময় জেনেটিক পরীক্ষায় আবারও ক্যানসার ধরা পড়ে। এবার আক্রান্ত হয় ডিম্বাশয়। গত ২২ জুলাই সিঙ্গাপুরে অস্ত্রোপচার করান তিনি। বর্তমানে দেশে কেমোথেরাপি চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ছয়টি কেমোথেরাপির কোর্স শেষ হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সামিয়া।

সামিয়ার অসুস্থতার প্রভাব পড়েছে পরিবারের সবার জীবনেই। মায়ের প্রথমবার ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার সময় বড় ছেলে আহানাফ আরাবি কানাডায় পড়াশোনা করছিলেন। মায়ের পাশে থাকার জন্য পড়াশোনা ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি। পরে দেশের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়া শুরু করেন।

মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া এবং নিজের চুলও ফেলে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আহানাফ বলেন, মাকে মানসিকভাবে সমর্থন দিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বন্ধুদের অনেকে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। মায়ের অসুস্থতার কথা জানার পর তাঁরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন। মায়ের অসুস্থতা তার নিজের জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে জানান আহানাফ। তাঁর কথায়, যেকোনো কাজের মধ্যেই মায়ের ক্যানসারের বিষয়টি মাথায় থাকে।

স্বামী, দুই ছেলে এবং মা-বাবাকে নিয়ে ঢাকার বনানীতে থাকেন সামিয়া। দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামী রেজাউল ইমরানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকেও সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি। ক্যানসারের চিকিৎসার কঠিন সময়েও সেই সমর্থন তার সাহস জুগিয়েছে। সামিয়ার মতে, ক্যানসারের চিকিৎসায় শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক চাপ সামলানোও জরুরি। এ সময়ে রোগীর আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে, অনেক কিছু সহ্য করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য, সহমর্মিতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের অসুস্থতার অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত লেখেন সামিয়া। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের মানসিক শক্তি জোগানো এবং রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন তিনি। ২০২৫ সালের ২০ মার্চ রাজধানীর বনানীতে ক্যানসার আক্রান্তদের সহায়তায় আয়োজিত একটি পোশাক প্রদর্শনীতে নিজের অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে জানান তিনি। এরপর থেকে নিজের চিকিৎসা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে নিয়মিত কথা বলছেন।

‘পারপাস বাই সামিয়া’ নামে একটি পডকাস্টের মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন তিনি। পাশাপাশি উজ্জ্বলা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে রোগীদের সহায়তায় মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন ও তহবিল সংগ্রহের কাজেও যুক্ত রয়েছেন। চিকিৎসার খরচ কমানো এবং ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তবে আপাতত চিকিৎসা শেষ করাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই উপস্থাপিকা।

চিকিৎসার পাশাপাশি অবসর সময়ে গান শোনা, গাছপালার যত্ন নেওয়া এবং পোষা বিড়ালদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মন ভালো রাখার চেষ্টা করেন সামিয়া। কঠিন সময়েও আশা হারাতে চান না তিনি।