ওমানের সঙ্গে প্রণালিতে চলাচলের রুট চূড়ান্ত

যুক্তরাষ্ট্র শর্ত পূরণ করলে, ইরানও হরমুজ খুলে দেবে: মাসুদ পেজেশকিয়ান

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের একটি রুট নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র জুনে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের রুট নিয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো পূরণ করলে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: বন্যায় নিখোঁজদের উদ্ধারে বিদেশি সহায়তা নেবে নেপাল

তিনি বলেন, হরমুজ দিয়ে চলাচলের প্রস্তাবিত রুটের বিষয়টি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছেও জানানো হয়েছে। এখন বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলছে।

পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়, বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু এবং লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করে, তাহলে ইরানও হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে।

আরও পড়ুন: নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বিপর্যয়, নিহত বেড়ে ৬৩৩

তিনি বলেন, আলোচনায় যতদূর অগ্রগতি হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রও সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা মেনে নিয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে একটি ‘ব্যতিক্রমী’ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। পরিষদের ১৩ সদস্যের মধ্যে ১২ জনই সমঝোতার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার কারণ

পেজেশকিয়ান বলেন, আগের সমঝোতা কার্যকর থাকার সময় নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আংশিকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ইরানের জব্দ অর্থ ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা এবং প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল।

তবে সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর ইরানের আমদানি ও রপ্তানি ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলে জানান তিনি। তার দাবি, সমঝোতা কার্যকর থাকার সময় ব্যাংকিং ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল এবং ওই সময়ে ইরান প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছিল।

কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানান পেজেশকিয়ান। তবে যুদ্ধ চলতে থাকলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরান হরমুজ প্রণালিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কাজ করছিল জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় শেষ পর্যন্ত সমঝোতা ভেঙে যায়।

জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও চলার কথা ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট

দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন রুট বন্ধ থাকায় দেশে পণ্য প্রবেশ কমেছে এবং সরকারের রাজস্বও কমে গেছে। এর মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার এখনো পেট্রলের দাম কখন বা কতটা বাড়াবে, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। বর্তমানে নিয়মিত বরাদ্দের অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্য তৃতীয় একটি মূল্যস্তর চালুর প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।

পেজেশকিয়ান জানান, তৃতীয় স্তরের জন্য প্রতি লিটারে প্রায় ১০ হাজার তুমান দাম নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। তবে পেট্রলের দাম ৫০ হাজার তুমান করা হবে—এমন খবর সত্য নয়।

এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিচার বিভাগ ও পার্লামেন্টের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

গণপরিবহনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

জ্বালানি সাশ্রয়ে গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেল ও গ্যাস অবকাঠামোসহ দেশের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জ্বালানি উৎপাদনও কমেছে।

জ্বালানি ব্যবহারের চাপ কমাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দূর থেকে কাজের সুযোগ বাড়ানো, গণপরিবহন সম্প্রসারণ, গাড়ির জ্বালানি দক্ষতার মান উন্নত করা এবং ট্যাক্সি ও মোটরসাইকেল বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের বিষয়গুলো বিবেচনা করছে সরকার। 

সূত্র: অনাদোলু এজেন্সি