এখনো নিখোঁজ ২ হাজার

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বিপর্যয়, নিহত বেড়ে ৬৩৩

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:১১ অপরাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। একই ঘটনায় তিব্বতে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে চীনা সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি। তিব্বতে এখনো ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে নিখোঁজের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৯২৪ জন। তাদের মধ্যে ৫১৭ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক। তবে উদ্ধার তৎপরতা চলমান থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্যে সংখ্যার কিছুটা পার্থক্যও রয়েছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র শর্ত পূরণ করলে, ইরানও হরমুজ খুলে দেবে: মাসুদ পেজেশকিয়ান

নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর প্রায় ৪ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত নতুন ভিডিওতে তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকারীদের অনুসন্ধান চালাতে দেখা যায়। তারা ধ্বংসস্তূপের ভেতর কেউ জীবিত আছেন কি না, তা জানতে বারবার ডাকাডাকি করছেন।

আরও পড়ুন: বন্যায় নিখোঁজদের উদ্ধারে বিদেশি সহায়তা নেবে নেপাল

তিব্বতে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চীন। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামনে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার অভিযান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এতে নতুন করে ভূমিধস ও অন্যান্য ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পেরিয়ে উদ্ধারকারী দল তিব্বতের দুর্যোগের অন্যতম কেন্দ্র গিরং বন্দরে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছাতে তাদের খাড়া পাহাড়, দুর্গম পথ ও প্রবল স্রোতের নদী অতিক্রম করতে হয়েছে।

লাসার একটি অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী দলের প্রধান জৌ মিংছি চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিকে জানান, গিরং বন্দরে পৌঁছে তারা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে পান। পুরোনো সীমান্ত ফটকের আশপাশের এলাকা ঘন কাদায় ঢেকে গেছে এবং কোথাও পা রাখলেই মাটিতে দেবে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত ছিল গিরং বন্দর। তবে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ভয়াবহ বন্যা ও ধসের আঘাতে বন্দরটির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কার্যত পুরো এলাকাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

উদ্ধার কার্যক্রম আরও নিরাপদ ও কার্যকর করতে গিরং বন্দরের আশপাশের ঢালগুলো পর্যবেক্ষণে ড্রোন ও পর্যবেক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। পাহাড়ের কোথাও নতুন করে ধসের আশঙ্কা দেখা দিলে সেখান থেকে উদ্ধারকারীদের সতর্ক করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আবহাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে থাকার সময়কে কাজে লাগিয়ে নিখোঁজদের মধ্যে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা শনাক্তে জোরালো অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালুর কাজও চলছে।

তবে ধসের পর সৃষ্ট হ্রদের পানির স্তর আবারও বাড়ছে বলে জানিয়েছে চীনা সংবাদমাধ্যম। এতে নতুন করে কাদা প্রবাহ ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি দুর্যোগের পরবর্তী ঝুঁকি মোকাবিলাতেও সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালের কয়েক হাজার পরিবার খাদ্য ও নিরাপদ পানীয় জলের সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকার সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ নেপালের জন্য জরুরি ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন জানিয়েছেন, নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে ২০ লাখ ইউরো, যা প্রায় ১৭ লাখ পাউন্ড, দিচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সম্প্রদায়গুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এই সহায়তা ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগ মোকাবিলায় দুই দেশের মানুষ দ্রুত একসঙ্গে কাজ করে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।