চাপের মুখে সিদ্ধান্ত বদল

বন্যায় নিখোঁজদের উদ্ধারে বিদেশি সহায়তা নেবে নেপাল

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:১১ পূর্বাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯:১১ পূর্বাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নেপালের ভয়াবহ ভোটেকোশি আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজদের উদ্ধারে শেষ পর্যন্ত বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সীমিত পরিসরে বিদেশি উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞ দলকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নেপাল সরকার জানিয়েছিল, দেশটির নিজস্ব উদ্ধারকারী দলই বন্যাকবলিত এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম। সে সময় বিদেশি কোনো উদ্ধারকারী দলকে অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এক দিনের মধ্যেই অবস্থান পরিবর্তন করে সরকার।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র শর্ত পূরণ করলে, ইরানও হরমুজ খুলে দেবে: মাসুদ পেজেশকিয়ান

নেপালের এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপ আসার পর নির্দিষ্ট কিছু কাজে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে টানেলের ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা এবং মরদেহ শনাক্তে তাদের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুক্রবার পর্যন্ত বন্যায় ৫৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৩১টি দেশের ৫১৭ বিদেশিসহ মোট ৯৭৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

আরও পড়ুন: ভেসে যাওয়া মরদেহ শনাক্তে বিপাকে নেপাল, মর্গে জায়গা সংকট

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতের নাগরিক—১৭৮ জন। এ ছাড়া ৬৫ জন যুক্তরাষ্ট্রের, ৫৩ জন ইউক্রেনের, ৩৫ জন অস্ট্রেলিয়ার এবং ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের নাগরিক রয়েছেন।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মূল্যায়নের পর আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটি ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকে বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদ পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। এসব দলের সদস্যরা টানেল উদ্ধার কার্যক্রম এবং ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষায় সহায়তা করবেন।

এরই মধ্যে ভারত নেপালে টানেল উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসক দল এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্য পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, দেশটি নেপালকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, ত্রাণসামগ্রীর পাশাপাশি ১১ সদস্যের চিকিৎসক, প্যারামেডিক ও টানেল উদ্ধারকারী দল নেপালে পাঠানো হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়াও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে নিখোঁজ দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানান। দেশটি একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে।

নেপাল সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেই বিদেশি সহায়তা নেওয়া হবে। বর্তমানে ভুক্তভোগীদের উদ্ধারে তিনটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর বন্যায় রাশুয়া ও নুওয়াকোট জেলার বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে বহু শ্রমিক ও কর্মী আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে।

আন্ডার কনস্ট্রাকশন আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৭৬ জন কর্মীর সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। রাশুয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫১ জন। এ ছাড়া মেইলুং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের আটজন কর্মীরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলে আটকে পড়া ৬০ জনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ত্রিশূলী-৩বি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৪৫ জন প্রযুক্তিবিদ, কর্মকর্তা ও পরামর্শকেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের টানেল থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হলেও এখনও ৩৫ জন সেখানে আটকা রয়েছেন।

নেপালের নিজস্ব পরীক্ষাগারে ডিএনএ পরীক্ষার সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় মরদেহ শনাক্তেও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হবে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিসির খানাল জানিয়েছেন, বিপুলসংখ্যক নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন। বিদেশি বিশেষজ্ঞরা দ্রুত মরদেহ শনাক্তে সহায়তা করলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা সহজ হবে।