কেবল অবকাঠামো নয়, পাহাড়ে মানবসম্পদ উন্নয়নই আসল: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন

Sanchoy Biswas
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫১ অপরাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে কোনো জাতির সামগ্রিক পরিবর্তন সম্ভব নয়, একটি অঞ্চলকে স্বাবলম্বী করতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।

গতকাল রবিবার রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাইনী মিলনায়তনে আয়োজিত প্রশিক্ষণ সনদ ও স্বাবলম্বীকরণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: বগুড়া পাসপোর্ট অফিসে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৬ সালের ১৪ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীরউত্তম উন্নত ও সমৃদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পার্বত্য অঞ্চলে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমেই উন্নত ও সমৃদ্ধ পার্বত্য অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, বোর্ডের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৫৪০ জন তরুণ-তরুণীকে ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের কর্মসংস্থানের পরমুখাপেক্ষিতা দূর করে আত্মনির্ভরশীল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলছে। ফ্রিল্যান্সারদের সহায়তায় সরকারের করমুক্ত আয় ও বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম উন্মুক্ত রাখার উদ্যোগের কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

পাহাড়ের বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে মীর হেলাল বলেন, "রংধনুর সাতটি রঙ আলাদা হলেও তাদের সংমিশ্রণ যেমন অনন্য সৌন্দর্য সৃষ্টি করে, তেমনি পার্বত্য তিন জেলার প্রতিটি জাতি-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মেলবন্ধনে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।" তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, যেকোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ এলে প্রথমে বিভাগীয় তদন্ত এবং পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানে বিদ্যমান জটিলতা ও বাস্তবতা বিবেচনা করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

কাপ্তাই হ্রদের অবৈধ দখল উচ্ছেদ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন এবং এ নিয়ে আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ধারাবাহিক বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণেও সরকারের নিয়মিত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ সালেহ আহাম্মদ, রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক মংছেলাইন রাখাইন ও নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমা। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী, গরিব ও দুস্থ মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ করেন এবং উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের অধীন প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন বোর্ডের কর্ণফুলী হলরুমে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার ও রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত ই-লার্নিং সেন্টার উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক হতে মহাপুরম খাল পর্যন্ত রাস্তার ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সবশেষে নানিয়াচর মহাপুরম খালের ওপর ব্রিজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।