বগুড়া পাসপোর্ট অফিসে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

Sanchoy Biswas
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৪২ অপরাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩৯ অপরাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নামে নানা রকম অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে এই সরকারি দপ্তরে সুনাগরিক হিসেবে সেবা পাওয়ার অধিকার যেন এখন ভোগান্তির মূল কারণ।

গত (২৩ আগস্ট) রবিবার স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা যায় যে, সরকারি নিয়ম মেনে সরাসরি আবেদন করতে গেলেই গ্রাহকদের প্রতিনিয়ত পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তি ও হয়রানিতে। অপরদিকে দালালদের অতিরিক্ত টাকা দিলেই মুহূর্তেই সকল সমস্যার সমাধান এবং জটিলতা হয়ে যাচ্ছে নিমিষেই শেষ। বর্তমানে এই অভিযোগটি উঠেছে সরাসরি পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) মানিক চন্দ্র দেবনাথ এবং সহকারী পরিচালক (এডি) আজিজকে ঘিরে।

আরও পড়ুন: কেবল অবকাঠামো নয়, পাহাড়ে মানবসম্পদ উন্নয়নই আসল: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন

তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা যায় যে, ভুক্তভোগী গ্রাহক এবং দালালদের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য-উপাত্ত। দালাল চক্রের সদস্যরা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেন যে, ডিডি মানিক চন্দ্র দেবনাথ যোগদানের পর থেকে তাদের কাজের পরিধি এবং সুবিধা দুটোই বেড়েছে। এমনকি আঞ্চলিক পাসপোর্টের যেকোনো বড় জটিলতাও তারা শতভাগ গ্যারান্টি সহকারে সমাধান করতে পারে বলে জানান তারা।

এমন নিয়ম-নীতি বহির্ভূতভাবে এই সুযোগ-সুবিধার পেছনে আছে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের কারণ। সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে একেকটি সাধারণ পাসপোর্টের জন্য ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এই দালাল চক্র। আর প্রতি ফাইলের বিপরীতে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ‘অফিস খরচ’ বাবদ প্রতিদিন বিকেলে পৌঁছে দেওয়া হয় এডি আজিজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বাবুদের পকেটে। তাই ভেতরের কর্মকর্তা বাবুদের সঙ্গে এই অলিখিত চুক্তির কারণে দালালদের হাত ঘুরে আসা ফাইলগুলো কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই দ্রুত অনুমোদন দিয়ে দেন তারা।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ

এতে ভুক্তভোগীরা দাবি জানান যে, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অনলাইন আবেদন জমা দেওয়া, ভুল সংশোধন, ছবি তোলার মতো সাধারণ প্রক্রিয়াগুলোকেও ইচ্ছাকৃতভাবে জটিল করে তোলা হয়। সাধারণ মানুষ সরাসরি গেলে ফাইলে নানা ভুলত্রুটি ধরে ফেরত পাঠানো একটি নিয়মিত কৌশলে পরিণত করেছে তারা। আর দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সাধারণ গ্রাহকরা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত অর্থ গুনে দালালদের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে সরকারি সেবা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের ব্যক্তিরা দাবি জানান যে, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে ও বাইরে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখা এই দালাল চক্র এবং তাদের মদদদাতা কর্মকর্তা বাবুদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অতি দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে বিধি-ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেমন কমবে না, তেমনি সরকারের ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতে গৃহীত উদ্যোগগুলোও ভেস্তে যাবে বলে মনে করছে তারা।

এসকল অভিযোগের বিষয়ে বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) মানিক চন্দ্র দেবনাথের সরকারি মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি বা কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।