ফ্রান্সজুড়ে নতুন বিক্ষোভ ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ, ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন ঘিরে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে। গত সপ্তাহের বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শনিবার (২৪ অক্টোবর) নতুন বিক্ষোভের আশঙ্কায় এ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্যারিসে সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা ও লুটপাটের উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানো হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্বামীর আলিঙ্গনে স্ত্রীর ৫টি পাঁজর ভাঙল, ভিডিও ভাইরাল

বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে বিধিনিষেধ

বিক্ষোভের কারণে ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে সমাবেশ ও চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্যারিসের কিছু এলাকায় কারফিউ ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রয়েছে। সহিংসতার আশঙ্কায় রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল

গত সপ্তাহে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে।

জরুরি বৈঠক করেছেন মাখোঁ

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। চলমান অস্থিরতার কারণে নাইজেরিয়া ও সেনেগালে তাঁর নির্ধারিত সফরও স্থগিত করা হয়েছে বলে এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষার পরিবেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপদ্ধতি নিয়ে সংস্কারের দাবি আন্দোলনে গুরুত্ব পাচ্ছে। 

গত সপ্তাহের বিক্ষোভে ব্যাপক সহিংসতা

গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের দাবি ছিল, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় আট লাখ। অধিকাংশ মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। 

আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকেরাও যোগ দেন। বিক্ষোভকারীদের একাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষা ও অন্যান্য জনসেবায় উন্নতির দাবি জানিয়েছেন।

সরকারের সামনে এখন একদিকে জনঅসন্তোষ মোকাবিলা এবং অন্যদিকে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রাখছে দেশটির প্রশাসন।