আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আখুন্দজাদা নিহত
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পরিচালিত ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযানে তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে একটি আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স বিশ্লেষক সংস্থা।
শুক্রবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ওসিন্ট ইউরোপ জানায়, পাকিস্তানি বিমান হামলায় কাবুলে ইসলামিক এমিরেত অব আফগানিস্তানের শীর্ষ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারসহ নিহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তালেবান কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান
২০২১ সালে মার্কিন ও ন্যাটো জোট আফগানিস্তান ত্যাগের পর দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে তালেবান। এরপর হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত তার অনুমোদনেই কার্যকর হয়।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে সীমিত বিমান অভিযান চালায়। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, নিষিদ্ধ গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)–এর ঘাঁটি লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু, নিহত ১৩৩
পরে বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলের সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাক সেনাচৌকিতে হামলা চালায় আফগান বাহিনী। আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজ জানায়, সেনাপ্রধান ফাসিহুদ্দিন ফিৎরাতের নির্দেশে মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এতে কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত ও কিছু সেনাকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ডুরান্ড লাইনের ওই হামলার পরই রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তান। অভিযানের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্সে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, ধৈর্যের সীমা শেষ এবং সামরিক জবাবই এখন একমাত্র পথ।
এদিকে ওসিন্ট ইউরোপের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।





