ইরানি হামলায় ধ্বংস ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ‘থাড’ রাডার

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ন, ০৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৭ অপরাহ্ন, ০৭ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ 'থাড' (THAAD)-এর একটি অত্যাধুনিক রাডার ধ্বংস করেছে ইরান। জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই AN/TPY-2 রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। সম্প্রতি স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

সাফল্য দাবি ইরানের, দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন গবেষণা সংস্থা ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস’ (FDD)-এর তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চ জর্ডানে দুটি শক্তিশালী ইরানি হামলা চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা প্রতিহতের দাবি করলেও বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রে রাডার ও এর সহযোগী সরঞ্জামগুলো ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা একে ইরানের অন্যতম বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুন: প্রতিবেশী দেশ থেকে হামলা না হলে আর আঘাত নয়: ইরানের প্রেসিডেন্ট

প্রতিরক্ষায় বড় ফাটল টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা 'থাড' মূলত বায়ুমণ্ডলের কিনারে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। এই রাডারটি অকেজো হয়ে পড়ায় এখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব বর্তাবে ‘প্যাট্রিয়ট’ সিস্টেমের ওপর। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যাট্রিয়ট সিস্টেমে ব্যবহৃত PAC-3 ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগে থেকেই কম থাকায় সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সরঞ্জামের তীব্র সংকট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো জানান, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাত্র আটটি থাড ইউনিট রয়েছে। ২০১২ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্তত নয়টি ইউনিটের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ইউনিট রয়েছে এবং এই মুহূর্তে হাতে কোনো অতিরিক্ত রাডার নেই। উল্লেখ্য, একটি পূর্ণাঙ্গ থাড ইউনিটের দাম প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে আবারও ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প

জরুরি বৈঠকে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক রাডার ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় মার্কিন সামরিক কৌশল নতুন করে সাজানোর চাপ বাড়ছে। এর আগে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি আর্লি ওয়ার্নিং রাডারও ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স-এর মতো শীর্ষ প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছে পেন্টাগন।