ইরানের হাতে কত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আছে, নিশ্চিত নয় ইসরায়েল

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের হাতে বর্তমানে কতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই বলে স্বীকার করেছে (আইডিএফ)।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টকে আইডিএফ সূত্র জানায়, তাদের অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করেন ইরানের কাছে এখন কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা

এর আগে চ্যানেল১২-এর এক প্রতিবেদনে আইডিএফের বিমানবাহিনীর এক কর্নেল দাবি করেন, ইরানের হাতে এখনো এক হাজারের বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে—যা পূর্বের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ধ্বংস নাকি অস্থায়ীভাবে অকার্যকর—রয়েছে অনিশ্চয়তা

আরও পড়ুন: মঙ্গলবার ইরানকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশ ধ্বংস না হয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে ইরান দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে একদিনের মধ্যেই এসব ক্ষেপণাস্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম বলে বিদেশি সূত্রে জানা গেছে। ফলে এগুলোর কিছু স্বল্পমেয়াদেই আবার ব্যবহারের উপযোগী হতে পারে।

লঞ্চার ধ্বংসের হিসাবেও বিভ্রান্তি

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। আইডিএফের তথ্যমতে, ইরানের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ লঞ্চার কোনো না কোনোভাবে অকার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে আনুমানিক ৫০ শতাংশ পুরোপুরি ধ্বংস এবং বাকি অংশ ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় রয়েছে।

কখনো কখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ৯০ শতাংশ কমে গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে বাস্তবে কিছু সময় পর আবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার বেড়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে।

যুদ্ধের শুরু থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

আইডিএফের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের হাতে প্রায় ২,৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এর মধ্যে ৫০০টির বেশি ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলো জানিয়েছে, তাদের দিকে ইরান প্রায় ১,৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

এই হিসেবে, কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস না হলেও ইরানের হাতে বর্তমানে ৭০০টির কম থাকার কথা। আর যদি কিছু ধ্বংস হয়ে থাকে, তাহলে বাস্তবে সংখ্যা আরও কম হতে পারে।

প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কম হিসাব করা হয়ে থাকতে পারে। এর আগেও আইডিএফ প্রথমে ২,৫০০ বললেও পরে তা বাড়িয়ে ৩,০০০ পর্যন্ত সংশোধন করেছে।

সব মিলিয়ে, ইরানের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, যা চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে।


সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট