হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি: দিনে সর্বোচ্চ ১৫টির সীমা নির্ধারণ ইরানের

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, ১০ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচলের সীমা নির্ধারণ করেছে ইরান।

বৈশ্বিক তেলের বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, নতুন এই সিদ্ধান্তে তা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকট ও মূল্য অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভেঙে পড়ার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাস-এর বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো বিধিনিষেধ সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, এখন থেকে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে ইরানের অনুমোদন ও নির্ধারিত প্রটোকলের ওপর নির্ভর করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করবে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ বললেন খাজা আসিফ

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রণালি অতিক্রম করতে হলে প্রতিটি জাহাজকে আইআরজিসি’র কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত ট্রানজিট ফি পরিশোধ করতে হবে। জানা গেছে, যুদ্ধবিরতির দুই সপ্তাহে প্রতিটি তেলের ব্যারেলের জন্য এক ডলার হারে ফি আদায় করা হবে, যা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইরান এই আর্থিক ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এই প্রণালিতে ট্রানজিট ফি আদায়ের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য যৌথ উদ্যোগ নিয়েও ভাবছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তার ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে এই জলপথে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত পরিকল্পনা জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও লেবাননসহ আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। এর ফলে তেল ছাড়াও সার ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।