হরমুজ প্রণালিতে ‘ফ্রি নিরাপত্তা নয়’, বিশ্বকে ইরানের কড়া বার্তা

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০৬ অপরাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৭:০৬ অপরাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা ও তেলের বাজার নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কড়া বার্তা দিয়েছেন মোহাম্মদ রেজা আরেফ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই কৌশলগত জলপথে কখনোই বিনা মূল্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। আরেফ বলেন, একদিকে ইরানের তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করা হবে, অন্যদিকে তাদের কাছ থেকেই আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা প্রত্যাশা করা হবে—এ ধরনের দ্বিচারিতা আর মেনে নেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন: পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না ইরান

তিনি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সামনে দুটি বিকল্প পথ খোলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। তার মতে, হয় সবার জন্য তেলের বাজার উন্মুক্ত করতে হবে, নয়তো জ্বালানি সংকটের কারণে বড় ধরনের মূল্য দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

ইরান-এর এই শীর্ষ নেতা আরও ইঙ্গিত দেন, দেশটিকে বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা সফল হবে না এবং এর নেতিবাচক প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়বে। তিনি বলেন, তেলের দামের স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে ইরান ও তার মিত্রদের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রত্যাহারের ওপর।

আরও পড়ুন: চুক্তি করে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

আরেফের দাবি, এই চাপ যতক্ষণ না টেকসইভাবে তুলে নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরবে না। ইরানের মতে, দেশটির ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারই বর্তমান সংকট সমাধানের একমাত্র পথ।

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তেহরান-এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি এই প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে সরে আসে বা অবরোধ আরও কঠোর করে, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।