যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত কী, এ পর্যন্ত কী ঘটল

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৫ অপরাহ্ন, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৫ অপরাহ্ন, ২২ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতির শর্ত নতুন করে সামনে এসেছে।

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর মেয়াদ আজ বুধবার সন্ধ্যায় (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) শেষ হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন: উপসাগরীয় দেশগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ চুক্তির প্রধান শর্ত ছিল ইরানকে ‘হরমুজ প্রণালি’ আবার খুলে দিতে হবে।

—পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির জন্য এ নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান দুই সপ্তাহের জন্য তাদের সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছিল।

আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

—শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদ সফর করেন। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান ছাড়াই ভ্যান্সকে খালি হাতে ওয়াশিংটনে ফিরতে হয়।

—যুদ্ধ বন্ধে চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারিসহ দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপও আরও বাড়িয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

—মূল সংঘাতের সমান্তরালে ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্তেও একটি যুদ্ধবিরতি চলছে। ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবারের মতো দুই দেশের সরাসরি আলোচনার পর গত ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

—ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ‘লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে’ হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে’। তবে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করায় তেহরান এ ঘোষণার পরদিনই আবার নৌপথটি বন্ধ করে দেয়।

—চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ‘পরিকল্পিত, তাৎক্ষণিক বা চলমান যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে ইসরায়েল যেকোনো সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বা আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে।’

—চুক্তিতে আরও বলা হয়, হিজবুল্লাহসহ অন্য যেকোনো ‘সশস্ত্র গোষ্ঠী’ যাতে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে না পারে, সেজন্য লেবানন সরকারকে ‘কার্যকর পদক্ষেপ’ নিতে হবে।


সূত্র: বিবিসি