যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা কমায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা ঘিরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তেলের দাম কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৭৫৪.৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে জুন ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ১.১ শতাংশ বেড়ে ৪,৭৭২.৬০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
আরও পড়ুন: ডলার শক্তিশালী, হরমুজ উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, চলমান যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হবে, যাতে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, কারণ ইরান কিংবা ইসরাইল—কেউই তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
বাজার বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, যুদ্ধবিরতি বাড়ার ফলে বাজারে ঝুঁকি কমার ইঙ্গিত মিলছে। তবে সংঘাত ফের শুরু হলে তেল, ডলার ও সুদের হার বাড়বে, আর তখন স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: আজ থেকে দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াচ্ছে বিপিসি
বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। তবে উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদের সুদভিত্তিক সম্পদের দিকে ঝুঁকিয়ে দেয়, ফলে স্বর্ণের চাহিদা ওঠানামা করে।
এদিকে ফেডারেল রিজার্ভ–এর সম্ভাব্য নীতি পরিবর্তন নিয়েও বাজার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নীতি ভবিষ্যতে স্বর্ণের দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে—রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।





