ফটো সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে: তথ্যমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ন, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২:৩৫ অপরাহ্ন, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি শক্তিশালী ছবি কখনও কখনও হাজার শব্দের চেয়েও বেশি কার্যকর। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর গণমাধ্যমের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফটো সাংবাদিকদের সময়োপযোগী দক্ষ জনবলে রূপান্তর করতে একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ)-এর মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: চার জাহাজে আসছে ১.৪১ লাখ টন ডিজেল, সরবরাহে স্বস্তির আশা

মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম এখন প্রযুক্তিনির্ভর এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।তবে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে ফটো সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে নিজস্ব প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, একসময় সাংবাদিকতার প্রধান উপকরণ ছিল কলম এবং ফটো সাংবাদিকদের জন্য ক্যামেরা। এখন একটি ছোট ডিভাইসই টেলিভিশন, রেডিও, ক্যামেরা, পত্রিকা এমনকি কম্পিউটারের কাজও করছে।

আরও পড়ুন: জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই: স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ফটো সাংবাদিকতার ধরন ও দায়িত্বেও বড় পরিবর্তন এনেছে। ফটো সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সময় বদলেছে, কাজের ধরন বদলেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানসিকতার পরিবর্তন না এলে পেশাগতভাবে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

মন্ত্রী বলেন, ফটো সাংবাদিকতা এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা একটি ছবি দিয়েই ইতিহাস, মানবিক সংকট কিংবা যুদ্ধের বাস্তবতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে পারে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ কিংবা ভিয়েতনাম যুদ্ধের ছবি বিশ্ব জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি জানান, ফটো সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে অ্যাসোসিয়েশনের জন্য একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভবনটি তাদের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন।

গণমাধ্যম শিল্পে কর্মরত সাংবাদিকদের সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে গণমাধ্যম মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে ওয়েজবোর্ড সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড, ফটো সেকশন সম্প্রসারণসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন পেশাগত সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চলবে।

সভায় বিপিজেএ সভাপতি একে এম মহসীনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি বাবুল তালুকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি বাসিত জামাল, তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী, ডিইউজের সহসভাপতি রাশেদুল হক, বিপিজেএ সহসভাপতি মশিউর রহমান সুমন, যুগ্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম সজল, সাংগঠনিক সম্পাদক সালেকুজ্জামান চৌধুরী রাজীব, প্রচার সম্পাদক সৌরভ এবং ক্রীড়া সম্পাদক খোকন শিকদার।