ফিলিপাইনের পার্লামেন্টে গোলাগুলি: আইসিসি পরোয়ানার পর আশ্রয়ে সিনেটর রোনাল্ড দেলা রোসা
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা-তে পার্লামেন্ট ভবনে আশ্রয় নেওয়া সিনেটর রোনাল্ড দেলা রোসা-কে ঘিরে বুধবার (১৩ মে) উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় ভবন এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটলে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীরা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর পরিস্থিতি জটিল আকার নেয়। দেলা রোসা জানান, তার গ্রেপ্তার যে কোনো সময় হতে পারে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে চীনকে গ্যারান্টর হিসেবে চায় ইরান
৬৪ বছর বয়সী এই সিনেটর সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে সরকারের সময় পরিচালিত বিতর্কিত ‘মাদকবিরোধী অভিযান’-এর অন্যতম প্রধান বাস্তবায়নকারী ছিলেন। তিনি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনের জাতীয় পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আইসিসি অভিযোগ করেছে, ওই অভিযানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। যদিও দেলা রোসা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সিনেট ভবনে অবস্থান নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দেশবাসীর প্রতি সমর্থন কামনা করেন এবং আর কোনো ফিলিপিনো নাগরিককে দ্য হেগে পাঠানো না হয়, সে বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব
ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদের বরাতে জানা যায়, সামরিক পোশাক পরিহিত ও অস্ত্রধারী কয়েকজন সদস্যকে সিনেট ভবনে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সিনেট কর্তৃপক্ষের অনুরোধেই নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে সিনেট সেক্রেটারি মার্ক ল্যান্ড্রো মেন্ডোজা দাবি করেন, জাতীয় তদন্ত ব্যুরোর (এনবিআই) সদস্য বলে সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তি ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন এবং সরে যাওয়ার সময় গুলি ছোড়েন। তবে এনবিআই পরিচালক মেলভিন মাতিবাগ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাদের কোনো টিম সেখানে পাঠানো হয়নি।
পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী জনভিক রেমুলা। তিনি জানান, প্রাথমিক তথ্যে কেউ হতাহত হয়নি এবং সিনেটর দেলা রোসা নিরাপদ আছেন। কারা গুলি চালিয়েছে তা নিশ্চিত হতে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, দুতার্তে সরকারের মাদকবিরোধী অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীর পাশাপাশি সাধারণ ব্যবহারকারী ও ক্ষুদ্র কারবারিরাও ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও ফিলিপাইনের পুলিশ বরাবরই দাবি করে আসছে, নিহতদের বেশিরভাগই সশস্ত্র ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা করেছিলেন।
দিনভর সিনেট ভবনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দেলা রোসার গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ে সিনেট প্রেসিডেন্ট অ্যালান পিটার কায়েতানো প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র-এর সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, এ ঘটনায় সরকারি কোনো বাহিনীর সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে দেলা রোসা প্রেসিডেন্ট মার্কোসের কাছে তাকে আইসিসির হাতে হস্তান্তর না করার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং দেশটির সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদনও করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
দেলা রোসার দাবি, ফিলিপাইন আর রোম সংবিধির সদস্য নয়, তাই তাকে আইসিসির কাছে হস্তান্তর করা আইনগতভাবে বৈধ হবে না। তবে আইসিসির অবস্থান হলো, কোনো দেশ সদস্য থাকাকালে সংঘটিত অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে।





