অভিযোগ নেই, তাই ব্যবস্থা নয়: বিতর্কিত পদোন্নতি নিয়ে চবি প্রশাসনের ব্যাখ্যা

চবিতে বহাল তবিয়তে ফ্যাসিস্টের দোসর- নিশ্চুপ প্রশাসন

Sanchoy Biswas
মো. সাবিত বিন নাছিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ৮:৩২ অপরাহ্ন, ১৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪০ অপরাহ্ন, ১৩ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) গত ২১শে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধান উপেক্ষা করে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটে প্রকৌশল অফিসের সাইদ হোসেন নামের এক কর্মকর্তাকে সেকশন অফিসার পদ থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশল অফিসে সেকশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সাঈদ হোসেনকে গত শনিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট (৫৬৬তম) সভায় সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী সেকশন অফিসার থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে উন্নীত হতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর দায়িত্ব পালন করতে হয়। চার বছর দায়িত্ব পালনের পর সকল যাচাই-বাছাই শেষে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি হতে পারে।

আরও পড়ুন: শিক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় তবুও ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থীরা

তথ্য রয়েছে, সাঈদ হোসেনের ক্ষেত্রে এই চার বছরের শর্ত পূরণ হওয়ার আগেই তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উক্ত নীতিমালা অনুসরণ করেছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

তথ্যসূত্রে আরও জানা যায়, সাবেক ভিসি আনোয়ার আজিম আরিফের স্ত্রীর ভাগ্নে ছিলেন এই সাঈদ হোসেন। সেই ক্ষমতাবলে ফ্যাসিস্ট আমলে সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পেলেও এক আশ্চর্য পন্থায় তিনি রাতারাতি সেকশন অফিসার পদে নিযুক্ত হয়ে যান। বিগত সরকারের আমলে তিনি আওয়ামী লীগ-সমর্থিত রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের অপসারণ বা স্থানচ্যুত করা হলেও সাঈদ হোসেন বহাল থাকেন। তৎকালীন সময়ে তিনি দলীয়ভাবে প্রভাব খাটাতেন বলেও জানা যায়। বর্তমান প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পদোন্নতি দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে দীর্ঘ ছুটি

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য কামাল উদ্দিন (প্রশাসনিক) বলেন, “এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। যদি কেউ সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ দিয়ে থাকে তাহলে আমরা সেটা সাদরে গ্রহণ করব এবং ব্যবস্থা নেব।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীই বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ পাওয়া ও ঘনিষ্ঠ। কিন্তু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারব না।”

উক্ত বিষয়ে উপাচার্য মোহাম্মদ আল ফোরকান এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি। 

অভিযুক্ত সাঈদ হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।