‘তুই রাজাকার’ আদলে ভারতে ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন, সামাজিক মাধ্যমে নতুন প্রতিরোধের ভাষা

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৩ অপরাহ্ন, ২০ মে ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, ২১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ ঘিরে শুরু হওয়া নতুন অনলাইন আন্দোলন এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে। বিশ্লেষকদের অনেকেই এই আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচিত ‘তুই রাজাকার’ আন্দোলনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য কীভাবে উল্টো প্রতিবাদের প্রতীকে রূপ নেয়—দুই ক্ষেত্রেই সেই বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ভারতে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় দেশটির প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। জাল ডিগ্রি ও বেকারত্ব প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি কিছু যুবককে “তেলাপোকা” ও “পরজীবী” বলে উল্লেখ করেন। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তরুণরা ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে নিজেদের “তেলাপোকা” পরিচয়ে সংগঠিত করতে শুরু করেন এবং তৈরি হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।

আরও পড়ুন: ‘খুব দ্রুত ইরান যুদ্ধ শেষ হবে’: ট্রাম্প

অন্যদিকে বাংলাদেশে ‘তুই রাজাকার’ শব্দবন্ধটি নতুন রাজনৈতিক তাৎপর্য পায় চব্বিশের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার “রাজাকার” শব্দ ব্যবহারের পর সেটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ভাষায় রূপ নেয়। শিক্ষার্থীরা সেই শব্দকেই স্লোগান ও প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের দমিয়ে দিতে বা হেয় করতে ব্যবহৃত শব্দ অনেক সময় উল্টো আন্দোলনের শক্তিতে পরিণত হয়। ফলে নেতিবাচক অভিধাই একপর্যায়ে পরিচয় ও প্রতিবাদের প্রতীকে রূপ নেয়।

আরও পড়ুন: যুদ্ধে ফিরলেই থাকবে বড় চমক : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, দুই দেশের ঘটনাতেই জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল দক্ষতা বড় ভূমিকা রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে তারা খুব দ্রুত মিম, ভিডিও, ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট ও স্লোগানের মাধ্যমে জনমত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে থেকেও এসব আন্দোলন অনলাইনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

ভারতের ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনের উদ্যোক্তা অভিজিৎ দীপক অবশ্য দাবি করেছেন, এটি সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলন নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণদের অপমানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদ হিসেবেই এই প্রতীকী আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে এর দ্রুত বিস্তার এবং তরুণদের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ‘তুই রাজাকার’ এবং ভারতে ‘তেলাপোকা’—উভয় ক্ষেত্রেই অপমানকে প্রতিবাদের ভাষায় রূপান্তর করার প্রবণতা স্পষ্ট। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক জনমত ও ডিজিটাল সংহতি।