সিএনএনের প্রতিবেদন

ইরানের বিরুদ্ধে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪২ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২:৪২ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এসব পরিকল্পনায় বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রচলিত বোমা হিসেবে পরিচিত ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এই পরিকল্পনা কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

বুধবার এক প্রতিবেদনে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে বলেছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি অবকাঠামো এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে নিহত বেড়ে ৩৪

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে থাকা সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা হিসেবে পরিচিত জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি), যা ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত, ব্যবহারের প্রস্তাবও রয়েছে এসব পরিকল্পনায়। তবে এই বোমা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অথবা পরে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ট্রাম্প। সে ক্ষেত্রে নতুন হামলার পরিকল্পনাগুলো কার্যকর করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল

সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দায়িত্বাধীন অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের আগেও এসব হামলা চালানো হতে পারে। এর মাধ্যমে বিজয় ঘোষণা করে সেনা প্রত্যাহারের আগে আরও হামলা চালানোর সুযোগ পেতে পারে মার্কিন প্রশাসন।

ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্য

সিএনএনের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পরিকল্পনায় এমওএবি ব্যবহারের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের একটি সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ স্থাপনাও রয়েছে।

ট্রাম্প একাধিকবার পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারণা, ইরান সেখানে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু উপাদান সংরক্ষণ করেছে। তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকে মার্কিন সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন ট্রাম্প।

এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, সামরিক পরিকল্পনাকারীরা নীতিনির্ধারকদের জন্য নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের হামলার বিকল্প তৈরি করেন। এর মধ্যে সীমিত মাত্রার অভিযান থেকে শুরু করে শক্তিশালীভাবে সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনাও থাকে।

ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসে কতটা কার্যকর বোমাটি?

এমওএবি একটি জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত বোমা। এর বিস্ফোরণে প্রায় নয়টি শহুরে ব্লকের সমান এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে। তবে বোমাটি গভীর ভূগর্ভে প্রবেশ করে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য তৈরি নয়।

সিএনএনের বরাত দেওয়া সূত্রগুলোর মতে, পুরু গ্রানাইটের স্তর ও অন্যান্য শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থার নিচে থাকা স্থাপনা ধ্বংস করতে বোমাটি কার্যকর নাও হতে পারে।

সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক সূত্র বোমাটিকে বিশাল এলাকাজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর উপযোগী অস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় আঘাত হানার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা সীমিত বলে মন্তব্য করেছে ওই সূত্র।

অর্থাৎ, বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম হলেও গভীরে সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার নিশ্চয়তা এই বোমা দিতে পারে না।

বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি ও মানসিক চাপ তৈরির কৌশল

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো বা জনবসতিসংলগ্ন স্থাপনায় এমওএবি ব্যবহার করা হলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বোমাটির বিস্ফোরণের প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মার্কিন কর্মকর্তারা বোমাটির সম্ভাব্য মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়েও বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সিএনএনের একটি সূত্রের মতে, অতিরিক্ত হামলা চালিয়েও ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তারপরও ট্রাম্পের ওপর আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে।

সূত্রটির ধারণা, গভীর ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে বিদ্যমান অস্ত্রের সীমাবদ্ধতা থাকায় এমওএবি ব্যবহার করে ইরানের ওপর মানসিক চাপ তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে মার্কিন প্রশাসন।

তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোমাটি ব্যবহারের বিষয়টি এখনো সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার অংশ। এটি ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে বলা হয়নি।

 সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি