কেনো ভায়োলেন্স ছেড়ে দিলেন অধরা খান ?
আন্তর্জাতিক প্রযোজনার বাংলা সিনেমা ‘ভায়োলেন্স’ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশি চিত্রনায়িকা অধরা খান। পরিচালকের অপেশাদার আচরণ ও যথাযথ যোগাযোগের ঘাটতিকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। সিনেমাটিতে কাজ করতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলেও দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী। এমনকি সিনেমাটির জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হলিউডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) টরন্টো থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন অধরা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক আগেই তিনি ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতেই বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: দীর্ঘ বিরতি ভেঙে ফিরছেন ইমরান খান, নায়িকা ভূমি পেডনেকর
নিজের ফেসবুক পোস্টে অধরা খান জানান, পরিচালকের অপেশাদার আচরণ এবং যথাযথ যোগাযোগের অভাবের কারণে সিনেমাটি নিয়ে তাঁর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হলেও সেখান থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি বলে দাবি করেন তিনি। অধরা বলেন, এত দিন নীরব ছিলেন, কারণ তাঁর বক্তব্যের কারণে সিনেমাটির শুটিং কিংবা এর সঙ্গে যুক্ত সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক, তা তিনি চাননি।
তবে এই নীরবতার মূল্যও তাঁকে দিতে হয়েছে বলে জানান এই অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, ‘ভায়োলেন্স’-এর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হলিউডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ গ্রহণ করতে পারেননি তিনি। চুক্তিগত গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা থাকায় সেসব কাজের বিস্তারিত প্রকাশ করাও সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন অধরা।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজায় মুক্তির অপেক্ষায় চার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘অন্যপাতা’
এ ছাড়া সিনেমাটিকে কেন্দ্র করে অন্যান্য কাজের সময়সূচি ও পেশাগত প্রতিশ্রুতি ঠিকভাবে বজায় রাখতে না পারায় তাঁর কাস্টিং ডিরেক্টর ও এজেন্সির কাছ থেকেও সতর্কবার্তা পেতে হয়েছে বলে জানান তিনি। অধরার বক্তব্যে সবচেয়ে হতাশাজনক অভিজ্ঞতা হিসেবে উঠে এসেছে শুটিংয়ের সময়সূচি নিয়ে যোগাযোগের বিষয়টি। তাঁর দাবি, সিনেমাটিতে তাঁর অংশের শুটিংয়ের মাত্র এক দিন আগে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল।
বাংলা সিনেমার প্রতি ভালোবাসা থেকেই ‘ভায়োলেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন অধরা খান। কিন্তু প্রকল্পটিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে বলে মনে করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তাঁর ভাষ্য, যথাযথ পেশাদারিত্ব, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্মানের বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে বিবেচনা না করে এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়াকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের বড় একটি ভুল হিসেবে দেখছেন।
তবে কাউকে ছোট করা কিংবা সিনেমাটির ক্ষতি করা তাঁর উদ্দেশ্য নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন অধরা। ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও অবস্থান ব্যাখ্যা করতেই তিনি বক্তব্যটি দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, পারস্পরিক সম্মান ও পেশাদারিত্ব কখনো একতরফা হওয়া উচিত নয়। একজন শিল্পী হিসেবে নিজের সময়, শ্রম ও আত্মসম্মানের মূল্য দেওয়াও তাঁর দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ অধরা খান। ২০১৮ সালে ইস্পাহানি আরিফ জাহান পরিচালিত ‘নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এতে বাপ্পী চৌধুরীর বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। একই বছর মুক্তি পায় তাঁর অভিনীত ‘মাতাল’ সিনেমা।
তবে অধরার প্রথম অভিনীত সিনেমা ছিল ‘পাগলের মতো ভালোবাসি’। সিনেমাটি আগেই নির্মিত হলেও মুক্তি পায় ২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। এ কারণে তাঁর অভিনীত প্রথম সিনেমা ও মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সিনেমার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
এরপর ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সুলতানপুর’ সিনেমায় অভিনয় করেন অধরা। তাঁর অভিনীত ‘দখিন দুয়ার’ ও ‘ঋতুকামিনী’ সিনেমা দুটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।





