খায়রুল হকের পাঁচ মামলার জামিন বহাল, রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল খারিজ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৩৫ অপরাহ্ন, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩৫ অপরাহ্ন, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যা মামলাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল খারিজ করে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

পাঁচ মামলার মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যা মামলা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা চার মামলায় গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট থেকে জামিন পান খায়রুল হক। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আরেক মামলায় ১১ মার্চ তাকে জামিন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: আইভীকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

পরবর্তীতে এসব জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। ৮ এপ্রিল চেম্বার আদালতে ওঠা আবেদনগুলো শুনানির জন্য ২৬ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার শুনানি শেষে আবেদনগুলো খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ। অন্যদিকে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকীসহ একাধিক আইনজীবী।

আরও পড়ুন: তিন বছরের বিধিনিষেধে থামলেন মনিরা : আপিলের ঘোষণা

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী জানান, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ হওয়ায় পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রয়েছে। অন্য কোনো মামলা না থাকলে তার মুক্তিতে আইনগত বাধা নেই।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার আরও দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।

গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে শাহবাগ ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় পৃথক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।