মানবতাবিরোধী অপরাধ

সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, চঞ্চলের ২০ বছরের কারাদণ্ড

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২:৪১ অপরাহ্ন, ২৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:৪৪ অপরাহ্ন, ২৮ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় দুইজনকে হত্যা এবং কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (২৮ জুন) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আরও পড়ুন: একযোগে পদত্যাগ করলেন ৭ ডেপুটি ও ১০ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

এ মামলায় রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং গ্রেপ্তার রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে পাঁচ বছরের শিশু আয়াত হত্যায় আবীর আলীর মৃত্যুদণ্ড

এর আগে সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়। শুরুতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি চান। ট্রাইব্যুনালের অনুমতির পর রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

রায়ের শুরুতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান। পরে বিচারক মোহিতুল হক এনাম অভিযোগপত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ রায়ের মূল অংশ ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার আগে বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার অপর চার আসামি পলাতক রয়েছেন।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলির হাত থেকে বাঁচতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন। পুলিশ তার পিছু নিয়ে ভবনের ছাদে উঠে যায়। একপর্যায়ে তিনি কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।