মিটফোর্ড হাসপাতালে ছাত্রদল সভাপতির নেতৃত্বে হামলা ও ভাঙচুর, মামলা না করেই সমঝোতা
রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ঘটনার প্রতিবাদে চার দফা দাবি জানিয়ে বুধবার (২৪ জুন) থেকে জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের সব বিভাগে কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।
এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার গভীর রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন তার স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে জরুরিভাবে আসে। এ সময় চিকিৎসা নিয়া কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরো ছাত্ররা আসে ব্যাপক ভাঙচুর র ও চিকিৎসকদের উপরে হামলা করো। চিকিৎসকদের উপরেই আমরা নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেল।
আরও পড়ুন: মিটফোর্ডে রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গিয়ে অপপ্রচারের শিকার হওয়ার দাবি জবি ছাত্রদল নেতা হিমেলের
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাতে হাসপাতালের সার্জারি ভবনের ৪২৯ নম্বর কক্ষে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি প্রবেশ করে সহকারী রেজিস্টার, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর শারীরিক হামলা চালায়। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে আইডিএ। দাবিগুলো হলো—
আরও পড়ুন: টিএইচই সাসটেইনেবিলিটি র্যাঙ্কিংয়ে দেশের সেরা গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
- প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিটের বাইরে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন
- হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন
- হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা
- সার্জারি বিভাগে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ
আইডিএর বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১ মার্চ হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানানো হলেও প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে কর্মবিরতি চলমান থাকবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত দেড়টার সময় অসুস্থ এক রোগীকে হাসপাতালে আনার পর ভর্তি ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের দাবি, এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল জড়িত ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, অসুস্থ অবস্থায় জবি ছাত্রদল নেতা হিমেলের এক বন্ধুর আত্মীয়কে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ভর্তি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ার কারণে ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে হিমেলের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে এসএসএমসি আইডিএর আহ্বায়ক ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, “হাসপাতালে সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। বুধবার সারাদিন হাসপাতালে আশা রোগীদের দীর্ঘ ভোগান্তি ও চিকিৎসকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান দুঃখ প্রকাশ করে চিকিৎসকদের এত সমঝোতা করেন। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেছে ঘটনার বিবরণী। পুলিশ ঘটনায় মামলা নেয়নি। হাসপাতালের চিকিৎসক কর্মচারীরা অবিলম্বে দায়ী ভাঙচুর কারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।





