ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১ লাখে পৌঁছাতে পারে: ইউএসজিএস

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৭ অপরাহ্ন, ২৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৭ অপরাহ্ন, ২৫ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে এবং দুর্যোগ পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা, বিমান চলাচল, শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইউএসজিএসের সদস্য ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ ভাশান রাইটস বলেন, ‘প্রম্পট অ্যাসেসমেন্ট অব গ্লোবাল আর্থকোয়েকস ফর রেসপন্স’ (পেজার) নামের একটি উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে।

তিনি জানান, পেজার প্রযুক্তি ভূমিকম্পের মাত্রা, গভীরতা, অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব, অতীতের ভূমিকম্পের তথ্য এবং ভবনের নির্মাণশৈলীসহ বিভিন্ন উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির একটি পূর্বাভাস দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এই পূর্বাভাস বাস্তব পরিস্থিতির কাছাকাছি থাকে।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ১০ হাজারের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা

গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ভেনেজুয়েলায় প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার এবং মাত্র ৪০ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউএসজিএস জানিয়েছে, দুই ভূমিকম্পের মধ্যকার সময়ের ব্যবধান ছিল অত্যন্ত কম, যা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ। রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র সামনে এসেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা ভিডিওতে বহু ভবন ধসে পড়া, পাহাড়ি ঢালে অবস্থিত স্থাপনা ভেঙে পড়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা গেছে।

সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ৭০০-এর বেশি মানুষকে।

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেল্লো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, বহু ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে।

উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।