লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে ভেঙে গেল আঞ্চলিক সড়ক, বিচ্ছিন্ন ২ হাজার পরিবার

Sadek Ali
মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:১৩ পূর্বাহ্ন, ০৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯:১৩ পূর্বাহ্ন, ০৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে তিস্তা নদীর আকস্মিক বন্যার তীব্র স্রোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে যাওয়ায় প্রায় দুই হাজার পরিবারের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ করে প্রায় ২ থেকে ৩ ফুট বৃদ্ধি পায়। এতে দহগ্রাম ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৃষ্টিয়ারপাড়, সিসটিয়ারপাড়, আঙ্গোরপোতা, ডাঙ্গাপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, প্রধানপাড়া, ওলেরপাড় ও সাকোয়াপাড়া এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়।

আরও পড়ুন: বাঁশের খুঁটিতে ভর করে টিকে আছে ৩০ বছরের কংক্রিটের সেতু

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করলেও নেমে যাওয়ার সময় প্রবল স্রোতের তোড়ে দহগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সাকোয়া নদীর সেতুর সংযোগ সড়কের একাংশ ধসে পড়ে। একই সঙ্গে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিসটিয়ারপাড় থেকে আঙ্গোরপোতা হয়ে পাটগ্রামগামী পাকা সড়কের প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে অন্তত ১০ ফুট গভীর খাদ সৃষ্টি হয়। ফলে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় দুই হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েন।

স্থানীয়রা জানান, সড়কটি এলাকার মানুষের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না, অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতেও সমস্যার মুখে পড়েছেন।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬, আহত ১৫

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, আকস্মিক বন্যায় প্রায় ৫০০ একর আমন ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যার পানি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেমে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত আমন ধানের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এলাকাবাসী দ্রুত ভাঙা সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, সাময়িকভাবে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না করা হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, "সড়ক ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল দ্রুত পুনঃস্থাপন করা যায়।"

স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আবারও স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।