ডিহাইড্রেশনজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেন? লক্ষণ ও পার্থক্য জানুন
মাথাব্যথা এমন একটি সমস্যা, যা নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তবে বেশিরভাগ রোগী ডিহাইড্রেশনজনিত মাথাব্যথা এবং মাইগ্রেনের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে না পেরে বিভ্রান্তিতে পড়েন। যদিও দুটি সমস্যার কিছু উপসর্গ মিল রয়েছে, তবে এর কারণ, প্রকৃতি এবং চিকিৎসা পদ্ধতি একেবারেই আলাদা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিহাইড্রেশনজনিত মাথাব্যথা হয় শরীরে পানির ঘাটতির কারণে। শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বেরিয়ে গেলে মস্তিষ্ক সামান্য সংকুচিত হয় এবং ব্যথা-সংবেদনশীল মেনিনজিয়াল মেমব্রেনে টান সৃষ্টি করে। এর ফলে সাধারণত কপাল বা মাথার দুই পাশে ভোঁতা ধরনের ছড়ানো ব্যথা অনুভূত হয়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে এই ব্যথা কমে যায়।
আরও পড়ুন: একবারে ২০–৩০ গ্রাম প্রোটিনই কি শরীর শোষণ করতে পারে? জানালেন পুষ্টিবিদরা
২০২৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব অ্যাকাডেমিক মেডিসিন অ্যান্ড ফার্মেসি-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, শরীরের ওজনের মাত্র ১-২ শতাংশ পানি কমে গেলেও মাথাব্যথার পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে, মাইগ্রেন একটি জটিল স্নায়বিক সমস্যা। এতে মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক পরিবর্তনের একটি তরঙ্গ তৈরি হয়, যা পরে ট্রাইজেমিনোভাসকুলার সিস্টেমকে সক্রিয় করে। এ কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত একপাশে হয়, দপদপে অনুভূত হয় এবং মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার হতে পারে। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব, আলো ও শব্দে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা এবং অনেক সময় ‘অরা’ দেখা দিতে পারে। মাইগ্রেনের একটি পর্ব সাধারণত ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং শুধুমাত্র পানি পান করলে এটি সারে না।
আরও পড়ুন: লো ওভারিয়ান রিজার্ভ কী? গর্ভধারণে দেরি করলে যে বিষয়টি জানা জরুরি
কীভাবে বুঝবেন কোনটি কোন ধরনের মাথাব্যথা?
ডিহাইড্রেশনজনিত মাথাব্যথা সাধারণত মাথার দুই পাশে হয় এবং দাঁড়ালে বাড়ে, শুয়ে থাকলে কমে। গরমে অতিরিক্ত পরিশ্রম, কম পানি পান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ বা হঠাৎ ক্যাফেইন বন্ধ করে দিলে এ ধরনের ব্যথা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, মাইগ্রেন সাধারণত একপাশে হয় এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম বা হাঁটাচলায় ব্যথা আরও বেড়ে যায়। চোখে ঝাপসা দেখা, আঁকাবাঁকা রেখা দেখা বা শরীরে অস্বাভাবিক অনুভূতি—যাকে ‘অরা’ বলা হয়—এসব লক্ষণ মূলত মাইগ্রেনের ক্ষেত্রেই দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানিশূন্যতা অনেক সময় মাইগ্রেনের ট্রিগার হিসেবেও কাজ করতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। গরম আবহাওয়া বা ব্যায়ামের সময় এর পরিমাণ আরও বাড়ানো দরকার।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
- হঠাৎ বজ্রপাতের মতো তীব্র মাথাব্যথা
- জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা ফুসকুড়ির সঙ্গে মাথাব্যথা
- দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা দুর্বলতা
- মাথায় আঘাত পাওয়ার পর মাথাব্যথা
- ক্রমশ বাড়তে থাকা ব্যথা
- ৫০ বছর বয়সের পর নতুন ধরনের মাথাব্যথা শুরু হওয়া
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ মাথাব্যথা নিরীহ হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক মাথাব্যথাকে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।





