জবিতে ফিন্যান্স বিভাগের উদ্যোগে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক সেমিনার

Sanchoy Biswas
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৩৮ অপরাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৭ অপরাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

​জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিন্যান্স বিভাগের উদ্যোগে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা-২০২৬’-এর আলোকে একটি বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: ঢাবি ট্রাস্ট ফান্ডের বৃত্তি পেলেন অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১১ শিক্ষার্থী

​কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বায়েজিদ আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. সাবিনা শরমীন এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাবেক ডিন ও জবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া। এছাড়াও কর্মশালায় প্রধান আলোচক ছিলেন যৌন নিপীড়ন বিরোধী কমিটির সদস্য ও জবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারজানা আহমেদ। 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফিন্যান্স বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা শেখ আলমগীর হোসেন। এসময় তিনি বলেন, “Prevention is better than cure। অর্থাৎ, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমরা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধকে অধিক গুরুত্ব দেই, এজন্যই আমাদের এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। কারণ, আমরা চাই না আমাদের সাথে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটুক, আমরা সচেতন হবো যেন এধরণের ঘটনা আমাদের সাথে কখনো না ঘটে।”

আরও পড়ুন: শিবিরের সাংগঠনিক দায়িত্ব ছাড়লেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. নাফিসা রওনক বলেন, “অনেক সময় আমাদের প্রত্যাশার বাইরেও এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায়। আমরা অনেক সময় সম্পর্কের ছলে বা ঠাট্টা করে অপরকে আঘাত দিয়ে ফেলি। আমরা এখন প্রাপ্তবয়স্ক। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে আমাদের সবার আচরণই সংযত করা দরকার, কারণ হয়রানি যে কারোর সাথেই হতে পারে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, “কর্মশালাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগে আয়োজন করার জন্য বিভাগীয় প্রতিনিধিদের বলা হয়েছে। ফিন্যান্স বিভাগ সর্বপ্রথম ও বৃহৎ পরিসরে কর্মশালাটি আয়োজন করায় ফিন্যান্স বিভাগকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মানুষ যখন মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে তখন সে পশু হয়ে যায়, আর যৌন নিপীড়ন মানুষকে পশু বানিয়ে তোলে। র‍্যাগিংও এক ধরনের নিপীড়ন। আমরা ক্যাম্পাসে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং সব ধরনের নিপীড়ন দূর করতে বদ্ধপরিকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি বিভাগেই পর্যায়ক্রমে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে এবং যৌন নিপীড়ন বিরোধী কমিটিকে আরও কার্যকরভাবে পুনর্গঠন করা হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার ড. সাবিনা শরমিন বলেন, “আমরা চাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ যেন অপরাধী না হয়, আবার কেউ যেন অপরাধের শিকারও না হয়। এরপরও কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।”

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাবেক ডিন ও জবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগই প্রথম এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ নিয়েছে, যা প্রশংসনীয়। তবে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে যেন কেউ এই আইনকে অপব্যবহার না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের কথাবার্তা ও আচরণে শালীনতা বজায় রেখে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বায়েজিদ আলী বলেন, “ফিন্যান্স বিভাগ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”

কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাঁরা যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালার বিভিন্ন দিক এবং আইনি প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পান।