গর্ভাবস্থায় রাতে অতিরিক্ত গরম লাগে কেন? জানুন কারণ

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৩০ অপরাহ্ন, ২৫ মে ২০২৬ | আপডেট: ১:৩৩ পূর্বাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গর্ভাবস্থায় রাতে অস্বাভাবিক গরম লাগা, ঘাম হওয়া বা ঘুমে অস্বস্তি—এ ধরনের সমস্যায় ভোগেন অনেক নারী। ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও ঘুমাতে গেলেই শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভাবস্থার শুরুতে শরীরে হরমোনগত পরিবর্তন, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি এবং বিপাক ক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ার কারণে এমন অনুভূতি দেখা দেওয়া স্বাভাবিক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভধারণের পর নারীর শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকে। এই হরমোনগুলো শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে হট ফ্ল্যাশ, রাতে ঘাম হওয়া বা অতিরিক্ত গরম লাগার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

আরও পড়ুন: থাইরয়েড ঠিকমতো কাজ করছে না, শরীরে দেখা দিতে পারে যে ৯ লক্ষণ

এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় শিশুর বৃদ্ধি ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে শরীরে রক্ত প্রবাহ এবং বিপাক ক্রিয়া বেড়ে যায়। এতে শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপ উৎপন্ন করে। মার্কিন স্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসি (CDC) জানিয়েছে, গর্ভাবস্থায় নারীর রক্তের পরিমাণ, হৃদস্পন্দন এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আনে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে রাতে গরম লাগা সাধারণত উদ্বেগের বিষয় নয়। অনেক নারীই এ সময় অতিরিক্ত ঘাম, অস্বস্তি বা ঘুমের সমস্যার মুখোমুখি হন। এটি শরীরের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের অংশ।

আরও পড়ুন: ব্যস্ততার মাঝেও ত্বকের যত্ন, সুস্থ ত্বকের জন্য ৫ সহজ অভ্যাস

  • রাতে অতিরিক্ত গরম লাগা কমাতে যা করবেন
  • ঢিলেঢালা ও সুতির পোশাক পরে ঘুমান
  • হালকা রঙের বিছানার চাদর ব্যবহার করুন
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • ঘর ঠান্ডা ও বাতাস চলাচল উপযোগী রাখুন
  • ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত মসলাদার বা ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন
  • মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম বা ধ্যান করতে পারেন
  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদিও গর্ভাবস্থায় গরম লাগা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক, তবে এর সঙ্গে যদি জ্বর, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃদস্পন্দন বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।