ব্যস্ততার মাঝেও ত্বকের যত্ন, সুস্থ ত্বকের জন্য ৫ সহজ অভ্যাস

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২০ অপরাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৮ অপরাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সারাদিনের ব্যস্ততায় নিজের ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময় বের করা অনেকের কাছেই কঠিন। তবে ত্বক ভালো রাখতে সবসময় দীর্ঘ সময়ের রুটিন প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত কিছু সহজ অভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অকাল বার্ধক্য ও বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

ত্বকের যত্নে ব্যস্ত মানুষও যে পাঁচটি অভ্যাস সহজেই শুরু করতে পারেন, সেগুলো হলো—

আরও পড়ুন: ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন? তালিকায় আছে চিংড়ি, কোমল পানীয়ও

১. সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বক বাঁচান

ত্বকের যত্নে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি থেকে সুরক্ষা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে বলিরেখা, বয়সের ছাপসহ বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বাইরে বের হওয়ার সময় কমপক্ষে SPF ৩০ যুক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন পুনরায় ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে কি চুল বেশি পড়ে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সম্ভব হলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন। এ সময় সূর্যের UV রশ্মি তুলনামূলক শক্তিশালী থাকে। লম্বা হাতার পোশাক, লম্বা প্যান্ট ও চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি ব্যবহার করেও ত্বককে রোদ থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেওয়া যায়। UV প্রতিরোধী পোশাকও ব্যবহার করা যেতে পারে।

২. ধূমপান থেকে দূরে থাকুন

ধূমপান শুধু শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্ষতি করে না, ত্বকের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ত্বকসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করা জরুরি। ধূমপান ছাড়তে সমস্যা হলে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

৩. ত্বকের সঙ্গে কোমল আচরণ করুন

প্রতিদিনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শেভিংয়ের সময় অতিরিক্ত ঘষাঘষি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই ত্বকের যত্নে কিছুটা কোমল হওয়া প্রয়োজন। গোসলের সময় খুব গরম পানি ব্যবহার না করে উষ্ণ পানি ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত দীর্ঘ সময় গোসল না করাও ভালো। কড়া সাবান বা ডিটারজেন্ট ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে নিতে পারে। এর পরিবর্তে মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

গোসল বা মুখ ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে ত্বক ঘষে শুকানোর পরিবর্তে আলতোভাবে চেপে পানি শুষে নিন। এতে ত্বকে কিছুটা আর্দ্রতা বজায় থাকে।

ত্বক শুষ্ক হলে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দিনের বেলায় SPF যুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে।

৪. স্বাস্থ্যকর খাবার খান

ত্বকের সুস্থতার জন্যও সুষম খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে ফল, শাক-সবজি, শস্যদানা ও চর্বিহীন প্রোটিন রাখার চেষ্টা করুন। তাজা ফল ও শাক-সবজিতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ত্বকের অকাল বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষতি প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। শরীর ও ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।

অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয়, প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস এবং পরিশোধিত শর্করা সমৃদ্ধ খাবার সীমিত করা ভালো।

ব্রণের সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চললেও বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কিছু গবেষণায় অতিরিক্ত দুধ পান বা দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ায় এমন প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে ব্রণের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

৫. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

অতিরিক্ত মানসিক চাপ ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে এবং ব্রণসহ বিভিন্ন ত্বকের সমস্যার প্রবণতা বাড়াতে পারে। তাই ত্বকের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার জন্যও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতিদিনের রুটিনে দ্রুত হাঁটা বা অন্য কোনো শারীরিক কার্যক্রম যোগ করা যেতে পারে।

কাজের চাপ কমাতে অপ্রয়োজনীয় কাজের তালিকা ছোট করুন। চাইলে ধ্যান বা যোগব্যায়ামের মতো কার্যক্রমও করতে পারেন। পাশাপাশি পছন্দের কাজ করা এবং পরিবার-বন্ধু বা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যও সময় বের করুন। ত্বকের যত্ন মানেই জটিল রুটিন নয়। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, ধূমপান এড়িয়ে চলা, কোমলভাবে ত্বকের পরিচর্যা, সুষম খাবার এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—এই অভ্যাসগুলো দিয়েই দৈনন্দিন ত্বকের যত্ন শুরু করা যেতে পারে।