মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নিয়োগের ঘোষণা বাংলাদেশের

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫৯ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতেও সম্মতি দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন: ভায়াগ্রা ও নিষিদ্ধ প্রসাধনীসহ সোয়া কোটি টাকার পণ্য জব্দ

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্ধ ও সীমিত হয়ে যাওয়া বৈদেশিক শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের মোট ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি।

আরও পড়ুন: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, গ্রেপ্তার ৫

মন্ত্রণালয় জানায়, তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেদের উদ্যোগে মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে। পাশাপাশি চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নির্বাচন এবং নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে তারা।

বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে মালয়েশিয়া। সরকারের আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজারে আরও উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নিয়োগব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন ও তালিকাভুক্ত করার বিধান রয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এজেন্সিগুলোর যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ার সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেন। ওই সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।

নতুন ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ ও কর্মী নির্বাচন করবে। এরপর কলিং ভিসা, ই-ভিসাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি সহযোগিতা করবে।

মালয়েশিয়ায় নিয়োগের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করবে।

প্রতিটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বোয়েসেল ও ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে।

বাংলাদেশি কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি কর্মীদের অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এ জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে দেশের প্রচলিত আইন মেনে এবং কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দুই দেশ চূড়ান্ত করবে মেডিকেল সেন্টারের তালিকা

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে এ তালিকা চূড়ান্ত করবে।

মন্ত্রণালয় জানায়, শ্রমবাজার দ্রুত চালুর স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টারের তালিকা পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দলের সরেজমিন পরিদর্শনের পর নতুন তালিকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ প্রক্রিয়ায় সময় প্রয়োজন হওয়ায় মালয়েশিয়া সরকারের অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বিতর্কিত ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সেন্টারগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে মেডিকেল সেন্টারগুলো যাচাই-বাছাই করবে।

বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মালয়েশিয়ার ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারগুলো নিয়মিত যাচাই করবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করা হবে। পর্যায়ক্রমে নতুন মেডিকেল সেন্টার তালিকাভুক্ত করা হবে এবং সংশোধিত তালিকা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করাতে হবে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে। কোনো নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। শ্রমবাজার পুনরায় চালুর এ উদ্যোগকে দুই দেশের শ্রম সহযোগিতার নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে সরকার, রিক্রুটিং এজেন্সি ও কর্মীদের সম্মিলিতভাবে এ সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।