স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা

বিপ্লব ফুরিয়ে যায়নি, সাগর-রুনি হত্যার বিচার হবে

বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৪৭ অপরাহ্ন, ২৫ অক্টোবর ২০২৪ | আপডেট: ৬:৫০ পূর্বাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২৪
ছবিঃ বাংলাবাজার পত্রিকা
ছবিঃ বাংলাবাজার পত্রিকা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফ বলেছেন, অনেকে মনে করেন গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লব ফুরিয়ে গেলো না তো। আমি বলতে চাই, বিপ্লব এখনও ফুরিয়ে যায়নি। মানুষ সংস্কার চায়, সেগুলো চলতে থাকবে। পাশাপাশি সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার বিচারও আমরা দেখবো। কেননা আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্ত যে কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সেই বাধা এখন আর নেই। শুধু সাগর রুনি নয়, গত ১৬ বছরে অপরাধে জড়ানো সবারই বিচার হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবন অডিটরিয়ামে ‘বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান ও ক্র্যাব নাইট-২০২৪' অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ক্র্যাব সভাপতি কামরুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ( ডিএমপি) কমিশনার মাইনুল হাসান, র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনিম ফেরদৌস, আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিটিএমই-এর শওকত আজিজ রাসেল,  ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি ও এনটিভি'র হেড অব নিউজ ফখরুল আলম কাঞ্চন প্রমুখ। 

আরও পড়ুন: শিক্ষার লক্ষ্য শুধু চাকরি নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ে তোলা: প্রধান উপদেষ্টা

ক্র্যাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপন দেওয়ানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।

এর আগে বিশাল আকৃতির কেক কেটে ক্র্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। অতিথিদের বক্তব্য শেষে ‘ক্র্যাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৪’ বিজয়ী ৩ সাংবাদিককে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি। অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীরা হলেন- প্রথম আলোর মাহমুদুল হাসান নয়ন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের নাজমুল সাঈদ ও ঢাকা পোস্টের জসীম উদ্দীন। ৩টি পৃথক ক্যাটাগড়িতে তারা বিজয়ী হন। অ্যাওয়ার্ড প্রদান শেষে ক্র্যাবের গত বছরের (২০২৩) কমিটিকে বিশেষ ক্রেস্টের মাধ্যমে সম্মাননা দেয়া হয়। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের মাধ্যমে ক্র্যাব নাইটের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ‘ক্লোজআপ ওয়ান’খ্যাত গায়ক নোলক বাবুর গানে মুগ্ধ হন সবাই।  

আরও পড়ুন: পবিত্র রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ বলেন, গত ২৩ জুলাই আপনাদের এই অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিলো বলে শুনলাম। কিন্তু আজকে যে কথা বলতে পারবেন, ২৩ জুলাই বলতে পারতেন না। কারণ টেলিভিশন পর্দায় ও আপনাদের মুখে এক অদৃশ্য কসটেপ দেয়া থাকতো। এখন আর সেই কসটেপ নেই। যা মন চায় আপনারা বলতে পারেন। তিনি বলেন,  এবারের গণঅভ্যুত্থানের বিশেষত হচ্ছে, গ্রামেও গণজোয়ার এসেছে। এর ফলস্বরূপ ইউনিয়ন পর্যায়ের মেম্বাররাও পলাতক। কারণ তাদের নির্যাতনের কারণে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ ছিলো। এই মানুষদের সামনে দাড়ানোর সাহস তাদের নেই। স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, ১৬ বছরের নির্যাতন অত্যাচারের পর যখন দরজা খুলে যায়, গণজোয়ার আসে তখন অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। তবে সেরকম কিছু ঘটেনি, আল্লাহর রহমত।

তিনি বলেন, ক্রাইম রিপোর্টিং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই বিটের কাজের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে সম্পর্ক সেটি অপরিহার্য। ক্রাইম রিপোর্টিং সহজ বিষয় নয়। বিদেশিরাও বিনিয়োগের আগে আইনশৃঙ্খলার কথা শোনে। সুতরাং এটি কিভাবে কমিয়ে আনা যায় সেটিকে জোর দিতে হবে। ক্রাইম রেট জিরো করতে হবে। বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মানুষ যেন সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। 

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হাসান আরিফ বলেন, গত ১৬-১৭ বছরে যত ক্রাইম হয়েছে এখন নির্ভয়ে তুলে আনতে পারবেন। সব অপরাধীদের বিচার হবে।

ডিএমপি কমিশনার মাইনুল হাসান বলেন, ৪১ বছরের পথচলায় ক্র্যাবের পরিধি অনেক বেড়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন। তিনি  বলেন, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ক্র্যাব সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাধ মিলিয়ে আমরা কাজ করছি। অনেকসময় অপরাধ দমন করতে গিয়ে ভুলবোঝাবুঝির কারণে পুলিশ সদস্যদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। আমরা প্রত্যাশা করবো, সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ খবর প্রকাশ করবে। আমরা সবসময় পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বন্ধন দৃঢ় করতে চাই। বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত দের অভিনন্দন জানিয়ে ক্র্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সফলতা কামনা করেন ডিএমপি কমিশনার।

ক্র্যাব সভাপতি কামরুজ্জামান খান বলেন, ২৩ জুলাই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা থাকলেও দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ করা হচ্ছে। ক্র্যাবের পাশে থাকার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।