নির্বাচনী প্রস্তুতি সন্তোষজনক, এখন লক্ষ্য ‘পারফেক্ট ভোট’: প্রধান উপদেষ্টা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১২ পূর্বাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:১২ অপরাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সারা দেশে উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। এখন পর্যন্ত নির্বাচন প্রস্তুতির ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সরকার এ নিয়ে সন্তুষ্ট।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে এসব কথা জানান।

আরও পড়ুন: কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না

ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় কোথাও কটু বক্তব্য বা অভদ্র আচরণের নজির দেখা যাচ্ছে না। এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আশাব্যঞ্জক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। প্রস্তুতি পর্ব ভালোভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সরকার সন্তুষ্ট হলেও এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভোটের দিন যেন সবকিছু নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন হবে উৎসবমুখর। নারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে আসবেন, পরিবারসহ মানুষ ভোট উৎসবে অংশ নেবে। তার প্রত্যাশা, এই নির্বাচন ভবিষ্যতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন: শহীদ জিয়ার নেতৃত্বেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে প্রেস সচিব জানান, পুলিশ সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭শ কেন্দ্রে এসব ক্যামেরা ব্যবহৃত হবে। বৈঠকের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা র‍্যান্ডমভাবে পাঁচটি স্থানে দায়িত্বরত বডি ক্যামেরা বহনকারী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং ক্যামেরার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করেন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ পুরোপুরি চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপ শুধুমাত্র নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন। কোনো কেন্দ্রে বা কেন্দ্রের বাইরে বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার ঘটনা ঘটলে অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশনে সংকেত পৌঁছে যাবে। এর ফলে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

প্রেস সচিব জানান, দুর্গাপূজার সময় একই ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে ৩২ হাজার মণ্ডপ নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছিল, যা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবারের নির্বাচনে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।