প্রস্তুত শহীদ মিনার, প্রথম প্রহর থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন
ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। রঙের আঁচড়ে সাজানো হয়েছে বেদি। এ কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন চারুকলার চার শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস আগামীকাল শনিবার। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে শুরু হবে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন৷ এ ছাড়া প্রভাতফেরিসহ আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানাবে সর্বস্তরের জনতা।
আরও পড়ুন: উদ্বোধক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৫ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু
সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন রঙে সাজানো হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার৷ শেষ মুহূর্তে চলছে পুরো এলাকাজুড়ে আলপনার কাজ৷ এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা৷ কয়েকটি রাস্তায় দেওয়া হয়েছে ডাইভারশন৷
নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা পরিদর্শন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
নিরাপত্তা শঙ্কা নেই
শহীদ মিনার এলাকা পরিদর্শন শেষে ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবসকে কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই৷ তবুও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকাকেন্দ্রীক ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে৷
শহীদ মিনার এলাকায় ইনার পেরিমিটার ও আউটার পেরিমিটার নির্ধারণ করে সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো এলাকাকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরে ফুট পেট্রোল, গাড়ি টহল ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ রাখা হবে।
শৃঙ্খলা ও শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় রেখে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বসাধারণকে অনুরোধও জানান ডিএমপি কমিশনার।
এদিকে, মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান।
বেলা সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে শহিদুর রহমান বলেন, শহীদ মিনার এলাকায় ইনার পেরিমিটার ও আউটার পেরিমিটার নির্ধারণ করে সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো এলাকাকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরে ফুট পেট্রোল, গাড়ি টহল ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা জোরদারে বোমা ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন থাকবে। শুধু শহীদ মিনার এলাকায় ৩ শতাধিক র্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
পলাশী ছাড়া ঢোকা যাবে না শহীদ মিনারে
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এলাকা জুড়ে রোড ডাইভারশন দিয়েছে ডিএমপি। শুক্রবার সন্ধ্যার পর বন্ধ করে দেওয়া হবে পলাশী মোড়-জগন্নাথ হলের রাস্তা বাদে সব সড়ক।
এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী বলেন, পলাশী ছাড়া অন্য কোনো রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ করা যাবে না। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এটি সবাইকে মেনে চলতে হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রোমানা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্বর অথবা চাঁনখারপুল হয়ে শহীদ মিনার ত্যাগ করা যাবে।
শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশপথে ডাইভারশন চলবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষক-ছাত্র-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ট্রাফিক নির্দেশনা অনুসরণ করে আমাদের সহযোগিতা করবেন। শহীদ মিনারে কোনো ধরনের ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ অথবা বিস্ফোরক দ্রব্য না আনার ব্যাপারেও সতর্ক করেন তিনি।





