চার্জ ছাড়াই টিকিটের টাকা ফেরত পাবেন যাত্রীরা
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাতিল হওয়া উড়োজাহাজের ফ্লাইটের যাত্রীদের টিকিটের অর্থ কোনো ধরনের চার্জ বা মাশুল ছাড়াই ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ৩ মার্চ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মিজ্ আফরোজা খানমের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বাতিল হয়ে ভিসা ও টিকিট সংক্রান্ত যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তা নিরসনে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের টিকিট ফেরতের সময় কোনো ধরনের চার্জ গ্রহণ করতে পারবে না উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো। এছাড়া টিকিট পুনরায় ইস্যুর ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভিসার মেয়াদ বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত জেমিনি ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল সিকদার বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অধিকাংশ উড়োজাহাজ সংস্থা টিকিট ফেরতের সময় কোনো চার্জ কেটে নিচ্ছে না। তিনি জানান, এখন স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে টিকিট ইস্যু করা হয়। তবে কেউ যদি কম মূল্যের টিকিটের বিপরীতে বেশি অর্থ দাবি করে, তা পরবর্তীতে সিস্টেমে ধরা পড়বে।
আরও পড়ুন: ৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ
মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাত্রীরা যেখান থেকে টিকিট ক্রয় করেছেন সেখান থেকেই টিকিটের অর্থ ফেরত নিতে পারবেন। এ কারণে অপ্রয়োজনে বিমানবন্দরে ভিড় না করতে যাত্রীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
গ্রুপ টিকিটের ক্ষেত্রে উড়োজাহাজের সময়সূচি সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের মোবাইল নম্বরে জানানো হচ্ছে। যাতে প্রত্যেক যাত্রী ফ্লাইট পরিবর্তনের তথ্য জানতে পারেন, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর স্মার্ট কার্ড থেকে যাত্রীদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বৈঠকের সিদ্ধান্তে বলা হয়, কোনো ট্রাভেল এজেন্সি যদি এই নির্দেশনা অমান্য করে, তাহলে ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানাবে।
এদিকে একটি বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থার পরিচালক একেএম জুনায়েদ জানান, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে টিকিট ফেরতের সময় কোনো অতিরিক্ত চার্জ রাখা হচ্ছে না। তবে স্বাভাবিক সময়ে টিকিটের মূল্য ও গন্তব্যের ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট চার্জ কাটা হয়।
বৈঠকে বিদেশে আটকে পড়া বাংলাদেশি উড়োজাহাজ কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে আটকে পড়া বিদেশি উড়োজাহাজ কর্মীদের ভিসা নবায়নের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে অবতরণসহ অন্যান্য চার্জ মওকুফের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
এছাড়া যেসব যাত্রীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বা শিগগিরই শেষ হবে, তাদের জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও বিদেশে বাংলাদেশের মিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।





