ইরানের সব স্তরের নেতাকে হত্যা, নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস: দাবি ট্রাম্পের
ইরান-এর নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এক সপ্তাহের অভিযানে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শনিবার (৭ মার্চ) এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী “অবিশ্বাস্য সাফল্য” অর্জন করেছে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের ছায়ায়: আনন্দ, ভয় এবং অনিশ্চয়তার এক সপ্তাহ
ট্রাম্পের দাবি, ইরানি নৌবাহিনীর ৪৪টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এবং তাদের প্রায় সব যুদ্ধবিমান মার্কিন হামলায় নিশ্চিহ্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামলার কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এখন তলানিতে নেমে এসেছে। যুদ্ধের প্রথম দুই দিনের তুলনায় বর্তমানে দেশটি মাত্র ৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে পারছে। পাশাপাশি তাদের প্রায় ৭০ শতাংশ রকেট লঞ্চার অকেজো করে দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন: টানা ১০ দিন ধরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে ইরান, বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন প্রায় ৯ কোটি মানুষ
নেতৃত্বের ওপর সরাসরি আঘাতের কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সম্ভাব্য বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
যুদ্ধ কতদিন চলবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে “যা প্রয়োজন” তা-ই করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” প্রত্যাশা করছে, যাতে ভবিষ্যতে দেশটি আর যুদ্ধের পথে না হাঁটে।
এছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আলোচনার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও তারা কোনো রফাদফায় যেতে রাজি নয়।
তিনি আরও জানান, এই যুদ্ধে কুর্দি যোদ্ধাদের ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। তেহরানের পানি শোধনাগারে হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও মন্তব্য করেন।
এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ওই এলাকাটি এখন মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নিরাপদ রয়েছে এবং ইরানি নৌবাহিনী আর বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল তেলের মজুদ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুতই কমে আসবে।





