১১ মে থেকে ৭২০ ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি, অতিরিক্ত দাম নিলে ব্যবস্থা
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের সাশ্রয়ী দামে খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে বিশেষ বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। আগামী সোমবার (১১ মে) থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ২১ মে পর্যন্ত। সরকার বলছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মুনাফা ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে কঠোর নজরদারির মধ্যেই পরিচালিত হবে এ কর্মসূচি।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। রোববার টিসিবির উপপরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন: তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
টিসিবির নির্দেশনা অনুযায়ী, সারাদেশে ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ জন সাধারণ ভোক্তার কাছে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রি করা হবে। শুক্রবার ছাড়া টানা ১০ দিন পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার উপকারভোগীর কাছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন পণ্য সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ভোক্তারা প্রতি ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি চিনি এবং ২ কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবেন। প্রতি লিটার ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩০ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং মসুর ডাল প্রতি কেজি ৭০ টাকা।
আরও পড়ুন: জনকল্যাণমুখী ও কর্মসংস্থানবান্ধব প্রকল্প গ্রহণ করা হবে: অর্থমন্ত্রী
বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও চাহিদা বিবেচনায় রাজধানী ঢাকা মহানগরী ও ঢাকা জেলায় প্রতিদিন ৫০টি ট্রাক মোতায়েন থাকবে। চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় থাকবে ২০টি ট্রাক। এছাড়া অন্য ছয়টি বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রতিটিতে ১৫টি করে এবং বাকি ৫৬ জেলায় ১০টি করে ট্রাকের মাধ্যমে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
টিসিবি জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত মূল্য ছাড়া অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি, মজুতদারি, অবৈধ হস্তক্ষেপ কিংবা বিক্রয় কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদের ভোগান্তি এড়াতে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক তদারকিও জোরদার করা হচ্ছে।
এদিকে, ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির নিয়মিত কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে। প্রায় ৭২ লাখ কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য মে মাসে প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন পণ্য সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। কার্ডধারী পরিবারের জন্য ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডালের নির্ধারিত পরিমাণ ও মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে।





