জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ন, ০১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৮ অপরাহ্ন, ০১ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, জনতুষ্টিবাদী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটাই সরকারের একমাত্র কাজ নয়; দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন বজায় রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও প্রতি লিটার অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। বর্ধিত দাম সোমবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই: জাতিসংঘ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঈদের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই আমদানিনির্ভর দেশগুলো বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধারাবাহিকভাবে দাম সমন্বয় করে আসছে।

তিনি বলেন, “আমাদের সরকার দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ থাকা সত্ত্বেও পুরোনো দামে জ্বালানি বিক্রি করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ একটি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় জ্বালানি আমদানি করেই চাহিদা পূরণ করতে হয়।”

আরও পড়ুন: হঠাৎ এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ: গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, জ্বালানি আমদানির সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই সরকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে একটি পরামর্শক কমিটি কাজ করছে এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ওই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, “ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ দেশের একজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ। তার পরামর্শ অনুযায়ী দীর্ঘ সময় জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। আমদানি ব্যয় ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা মাথায় রেখেই সরকারকে পরিচালনা করতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “জনতুষ্টিবাদী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটাই সরকারের একমাত্র কাজ নয়। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।”