কারামুক্ত আইভী লড়বেন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে
প্রায় ১৩ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টা ৮ মিনিটে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার জানান, সন্ধ্যায় পৌঁছানো জামিনের নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আইভীকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কারাগার ত্যাগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ‘ভাই, এত ব্যস্ত হইয়েন না’: ছুটির বিষয়ে প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ বলেন, সংশ্লিষ্ট আদালতের জামিন আদেশ এবং বিভিন্ন মামলায় জামিন নিশ্চিত হওয়ার পর অন্য কোনো আটকাদেশ না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কারা সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৯ মে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর আইভীকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: আগের দামেই বিদ্যুৎ পাচ্ছেন লাইফলাইন গ্রাহকরা
মুক্তির সময় কারাগার ফটকে তার আইনজীবী ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। তবে কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে সরাসরি গাড়িতে করে চলে যান।
আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন দাবি করেন, মামলাগুলো ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, হাইকোর্টের জামিনাদেশ আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় তার মক্কেলের মুক্তির পথ সুগম হয়েছে। পাশাপাশি আইভী ভবিষ্যতেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং পরবর্তী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলায় আইভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। এসব মামলায় পর্যায়ক্রমে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি, যা পরে আপিল বিভাগও বহাল রাখে।
উল্লেখ্য, সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।





