দুবাই কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ন, ০২ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪৬ অপরাহ্ন, ০২ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, মুক্তির পর তিনি ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে আদালতের শর্ত অনুযায়ী বর্তমানে তিনি দুবাই ত্যাগ করতে পারবেন না এবং তার পাসপোর্ট সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রের দাবি, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পান বেনজীর আহমেদ। এর আগে ২৭ জুলাই ইউএইর একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন: বেনজীরের জামিন বাতিলে দুবাইয়ে ল’ফার্ম নিয়োগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথি এবং আইনি বিষয় নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেন।

তবে আদালতের শর্ত অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ দুবাই ছাড়তে পারবেন না। পাশাপাশি তার পাসপোর্টও কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়েছে। যদিও পারিবারিক সূত্রের দাবি, তিনি ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন: বেনজীরকে ফিরিয়ে এনে বিচার কাজ সম্পন্ন করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

এদিকে, বেনজীর আহমেদের জামিন ও মুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুবাই পুলিশের সহায়তায় এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় ওই অভিযান পরিচালিত হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে এ বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত করছে দুদক। তদন্তের ধারাবাহিকতায় দেশীয় আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে তদন্ত শুরু করে দুদক। অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।