পুশইন ইস্যুতে দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক শুরু
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং সাম্প্রতিক ‘পুশইন’ ইস্যুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সম্মেলন শুরু হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) শুরু হওয়া এই সম্মেলন আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলবে। বৈঠকে বিএসএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাহিনীর মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার এবং বিজিবি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আফরুজ্জামান সিদ্দিকী।
আরও পড়ুন: দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সিদ্ধান্ত ভারতের: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, চারদিনের এই সম্মেলনে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভারতীয় নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, বাংলাদেশভিত্তিক ভারতবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া, ভারত যেসব ব্যক্তিকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করছে, তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় না পড়া ৪ হাজার ৮০০ জন কথিত অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও ৮৩৬ জনকে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, ভারত থেকে ‘পুশইন’-এর চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে বিএসএফের কয়েকটি ‘পুশইন’ প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
গত ১ জুন যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্তে ১০ থেকে ১৩ জন ব্যক্তিকে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেখা যায়। পরে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে কোনো তালিকা পাঠালে আইন অনুযায়ী প্রত্যাবাসন (রিপ্যাট্রিয়েশন) প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো তালিকা বাংলাদেশ সরকার পায়নি।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং বাংলাদেশ কোনো ধরনের অবৈধ ‘পুশইন’ বা ‘পুশব্যাক’ কার্যক্রমের বিরোধিতা করে।





