পদ্মা সেতুর আদলে এগোচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা: পানিসম্পদমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ন, ১৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৭ অপরাহ্ন, ১৯ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প যেভাবে পরিকল্পনা ও অনুমোদনের ধাপ পেরিয়ে বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছিল, তিস্তা মহাপরিকল্পনাও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ, তিস্তা সেচ ক্যানেল এবং চারালকাটা নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: প্রতিমন্ত্রী শাহ আলমের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করায় ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ সম্পাদক গ্রেপ্তার

মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন উদ্যোগ। এটি কেবল একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়; বরং তিস্তা অববাহিকায় বসবাসরত মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা, নদীভাঙন ও পানিসংকট সমস্যার টেকসই সমাধানের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা।

তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, কারিগরি বিশ্লেষণ এবং প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

আরও পড়ুন: আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো উদ্বেগ নেই: ডিএমপি

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল প্রয়োজনীয় কাজ করছে। প্রতিবেদন চূড়ান্ত হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”

তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির স্বল্পতায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং মৎস্যসম্পদ হ্রাস পায়। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও প্রবল স্রোতের কারণে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে, ফলে প্রতিবছর বহু পরিবার ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকা হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়ে।

মন্ত্রী আরও জানান, মহাপরিকল্পনার আওতায় নদী শাসন, ড্রেজিং, তীর সংরক্ষণ, বাঁধ উন্নয়ন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রকল্পটির পরিধি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এটি সম্পন্ন হলে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ সময় উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করলেও অতীতে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা ও নদীভাঙন রোধের দাবিতে তাদের অনেককে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এ সময় কেউ কেউ এর কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে তিস্তা পাড়ের মানুষের অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিন যারা আন্দোলন করেছেন, তাদের অবদানও স্মরণ রাখা প্রয়োজন।”

দুলু আরও বলেন, প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিদেশি অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারি তহবিল থেকেই পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব।