সৌদির নতুন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৫৭ অপরাহ্ন, ৩১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৭ অপরাহ্ন, ৩১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্সে (Multinational Maritime Defense Alliance) যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ জোট গঠনের ঘোষণা দেয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদার করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের গাজা-সংক্রান্ত দাবি প্রত্যাখ্যান করলেন ফিলিস্তিনি নেতারা

বাংলাদেশ ছাড়াও এই জোটের সদস্য দেশগুলো হলো—সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলো গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ পরিকল্পনা, সমন্বিত সামরিক মহড়া এবং প্রয়োজন হলে যৌথ সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছে, এই জোট সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত হয়নি।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার সুপারিশ ভারতের সংসদীয় কমিটির

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতা এবং ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার ফলে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোটটি গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশের এই জোটে অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বড় অংশই সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ, পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি প্রতিদিন বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই এই রুটে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।